অস্ট্রিয়ার সবচেয়ে উঁচু পাহাড় গ্রসগ্লকনারে তীব্র শীতে জমে মারা যাওয়া ৩৩ বছর বয়সী নারীকে শনাক্ত করেছে স্থানীয় পুলিশ। তার নাম কেরস্টিন গুর্টনার। তিনি জাল্ট্‌স বুর্গ এলাকার বাসিন্দা এবং পাহাড় প্রেমিক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। জানুয়ারিতে তিনি তার প্রেমিক থমাস প্লামবার্গারকে সঙ্গে নিয়ে এ পাহাড়ে ওঠেন। থমাস ছিলেন অভিজ্ঞ পর্বতারোহী ও গাইড।

পাহাড় উঠার সময় পরিকল্পনার তুলনায় তারা দু’ঘণ্টা দেরিতে যাত্রা শুরু করেন। পথে ভয়াবহ ঠান্ডা, ঝড়ো হাওয়া এবং মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নিম্ন তাপমাত্রায় দু’জনই বিপদে পড়েন। চূড়ার প্রায় ১৫০ ফুট নিচে কেরস্টিন ক্লান্ত, প্রচণ্ড ঠান্ডায় অসাড় এবং দিকভ্রান্ত হয়ে পড়েন।

অভিযোগ, রাত প্রায় ২টার দিকে থমাস তাকে সেখানে রেখে সাহায্য আনতে বের হন। কিন্তু তার কাছে থাকা জরুরি কম্বল বা বিব্যাক স্যাক (জরুরি আশ্রয়ব্যাগ) ব্যবহার করে প্রেমিকাকে সুরক্ষিত করেননি। উদ্ধারকারী দল জানায়, থমাস মোবাইল সাইলেন্ট করে রাখায় তাদের ফোন ধরতে পারেননি। ওয়েবক্যামের ছবিতে দেখা যায়, চূড়ার দিক থেকে শুধু একটি হেডলাইট নিচে নামছে—ধারণা করা হচ্ছে সেটি থমাসের।

তীব্র ঝড়ো হাওয়ার কারণে উদ্ধারকারী দল সকাল পর্যন্ত কেরস্টিনের কাছে পৌঁছাতে পারেনি। পরে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। থমাস প্লামবার্গারের বিরুদ্ধে গুরুতর অবহেলার কারণে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। দোষী প্রমাণিত হলে তার সর্বোচ্চ তিন বছরের জেল হতে পারে। তার আইনজীবী দাবি করছেন, এটি ‘দুর্ভাগ্যজনক দুর্ঘটনা’।

এ ঘটনায় কেরস্টিনের পরিবার ও বন্ধুরা একটি অনলাইন স্মৃতি-পাতা তৈরি করেছেন। সেখানে শত শত মানুষ শোকবার্তা দিচ্ছেন এবং তাকে একজন প্রিয়, সদয় ও প্রাণবন্ত মানুষ হিসেবে স্মরণ করছেন। ভুক্তভোগীর পরিবার অনুরোধ করে বলেছে—‘দয়া করে কেউ অভিযোগ বা দোষারোপ করবেন না’।

বিডিপ্রতিদিন/কবিরুল



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews