মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) ঢাকা ক্লাবের স্যামসন এইচ চৌধুরী লাউঞ্জে এই সভায় প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের চলচ্চিত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন। এদিন চলচ্চিত্র নির্মাণের বিভিন্ন দিক, চলচ্চিত্র উৎসব, প্রিমিয়ার প্রদর্শনী, সেন্সরশিপ, তহবিল সংগ্রহ ইত্যাদি বিষয়ে বক্তারা তাদের গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন। অংশগ্রহণকারীদের অনেক প্রশ্নের উত্তরও দেন চলচ্চিত্রবোদ্ধারা। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বেশিরভাগই ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষানবীশরা।

শুরুতে সবচেয়ে তথ্যবহুল, দিকনির্দেশনামূলক ও প্রাণবন্ত উপস্থাপনা করেন ভারতীয় চলচ্চিত্রবোদ্ধা মীনাক্ষী শেড্ডে। তিনি মুম্বাইভিত্তিক চলচ্চিত্র সমালোচক ও সাংবাদিক। বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবে দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেন তিনি।

মীনাক্ষী তার মূল্যবান বক্তব্যে একটি চলচ্চিত্র উৎসব কীভাবে আয়োজন করতে হয় এবং বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবে নির্মাতারা কীভাবে তাদের চলচ্চিত্র জমা দিতে হয় এ বিষয়ক দিকনির্দেশনা দেন। তিনি জানান, বাংলাদেশি নির্মাতাদের জন্য ভারতীয় তথা দক্ষিণ এশীয় চলচ্চিত্র উৎসবগুলো বেশি সুযোগ রাখে। ইউরোপ-আমেরিকা অপেক্ষা দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় চলচ্চিত্র উৎসব বাংলাদেশি নির্মাতাদের চলচ্চিত্রের প্রিমিয়ারের জন্য তুলনামূলক প্রশস্ত ক্ষেত্র। পাশ্চাত্যের চলচ্চিত্র উৎসবে চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হতে হলে তুলনামূলক অনেক বেশি গুণগত মানসম্পন্ন হওয়া জরুরি। যেমন, সিনেমার সাবটাইটেল। এটাকে অনেকেই গুরুত্ব দেন না। নির্মাণের শেষে তড়িঘড়ি করে একটা কিছু লিখে ছেড়ে দেন। কিন্তু এটাই একমাত্র মাধ্যম যার মাধ্যমে আপনার সিনেমার বার্তা আন্তর্জাতিক অঙ্গণে পৌঁছে দেয়। সুতরাং এটা সতর্কতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ও সাবলীল হওয়া বাঞ্চনীয়। ইংরেজি অনুবাদের সামান্য ত্রুটির কারণেই আপনার সকল প্রচেষ্টা ব্যর্থ হতে পারে। তাই সিনেমাটোগ্রাফির মতো সাবটাইটেলও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

মীনাক্ষী শেড্ডের পর গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন নরওয়ের চিত্রপ্রযোজক, পরিবেশক ও শিক্ষক অগে হফার্ট। তিনি এই ক্ষেত্রে প্রায় ৪০ বছর ধরে কাজ করছেন। দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যের পাশাপাশি শিক্ষানবীশদের অনেক প্রশ্নের উত্তরও দেন তিনি। এছাড়া বাংলাদেশের চলচ্চিত্র বিষয়ে অন্তদৃষ্টিমূলক বক্তব্য দেন আবু শাহেদ ইমন। তিনি বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রের সঙ্গে নান্দনিক চলচ্চিত্রের তুলনামূলক আলোচনার পাশাপাশি সেন্সরশিপ নিয়েও দিকনির্দেশনা দেন।

সেন্সরশিপসহ বিবিধ বিষয়ে কথা বলেন আবু শাহেদ ইমন। ছবি: বাংলানিউজ

প্রাচ্যের সঙ্গে পাশ্চাত্যের এই মিলনমেলায় উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের চলচ্চিত্র উৎসব বিষয়ক উপদেষ্টা ও প্রশিক্ষক সিডনি লেভিন, পোল্যান্ডের চিত্রনির্মাতা ও চিত্রনাট্যকার জোয়ানা কস-ক্রাউজ, বাংলাদেশের বাইরে লন্ডনে বাংলা চলচ্চিত্র নিয়ে ২০ বছর ধরে একমাত্র আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব রেইনবো ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের আয়োজক মোস্তফা কামাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। 

ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের পরিচালক আহমেদ মুজতবা জামাল বলেন, দেশি নির্মাতাদের জন্য ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব অনেক বড় একটি সুযোগ। তবে দু’টি শর্ত রয়েছে। এক. নির্মাতাদের চলচ্চিত্র অবশ্যই সেন্সরড হতে হবে। দুই. বাংলাদেশের অন্য কোন ‘চলচ্চিত্র উৎসবে’ প্রিমিয়ার হলে সেই চলচ্চিত্র এখানে প্রদর্শনের জন্য গৃহীত হবে না। ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব সবসময়ই তরুণ নির্মাতাদের উৎসাহ দেয় এবং তাদের জন্য সুযোগ সবসময়ই উন্মুক্ত বলে জানান তিনি। 

এরপর বিকেলের আয়োজনে একই ভেন্যুতে চলচ্চিত্রের জন্য তহবিল বিষয়ক দিকনির্দেশনামূলক মতবিনিময় হয়।

১১ থেকে ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে মোট ৭৮টি দেশের ২২০টি সিনেমা প্রদর্শন করা হচ্ছে। এর মধ্যে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ১১৭টি, স্বল্পদৈর্ঘ্য ও স্বাধীন চলচ্চিত্র ১০৩টি রয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র থাকছে ২৬টি। চলচ্চিত্রগুলো জাতীয় জাদুঘরের মিলনায়তন, কেন্দ্রীয় গণগ্রন্থাগারের মিলনায়তন, অঁলিয়স ফ্রঁসেজ মিলনায়তন, শিল্পকলা একাডেমির চিত্রশালা ও নৃত্যশালা প্রাঙ্গণ, স্টার সিনেপ্লেক্স ও মধুমিতা সিনেমা হলে প্রদর্শিত হচ্ছে। 

বাংলাদেশ সময়: ১৮৩০ ঘণ্টা, জানুয়ারি ১৪, ২০২০

এমকেআর



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews