২ June ২০২৬ Tuesday ১:২৪:১৫ PM Print this E-mail this

ঢাকা-বরিশাল নৌরুট: যাত্রী খরা, অস্তিত্ব সংকটে লঞ্চ মালিকরা

আমাদের বরিশাল ডেস্ক:

সারা বছর লোকসানে ধুঁকতে থাকা ঢাকা-বরিশাল নৌরুটের অত্যাধুনিক ও বিলাসবহুল লঞ্চগুলোতে এবার ঈদেও দেখা দিয়েছে যাত্রী খরা। গত কুরবানির ঈদের তুলনায় এবার যাত্রী উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাওয়ায় লোকসানের বোঝা আরও ভারী হয়েছে বলে দাবি লঞ্চ মালিকদের। সংশ্লিষ্টদের মতে, অধিকাংশ ট্রিপে পরিচালন ব্যয়ই তুলতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তাই ঈদ ঘিরে লোকসান কাটিয়ে ওঠার যে আশা ছিল, তা-ও ভেস্তে যেতে বসেছে!

পদ্মা সেতু চালুর পর ঢাকা-বরিশাল সড়কপথে যাতায়াত সহজ হয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে মাত্র সাড়ে ৩ ঘণ্টায় বরিশাল থেকে ঢাকায় পৌঁছানো গেলেও ঈদের চাপে এ সময় সাধারণত ৫ থেকে ৬ ঘণ্টার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। অন্যদিকে নৌপথে একই যাত্রায় সময় লাগে ৮ থেকে ৯ ঘণ্টা। সময়ের পাশাপাশি ব্যয়ের দিক থেকেও সড়কপথ এখন যাত্রীদের কাছে বেশি আকর্ষণীয়। ফলে ক্রমেই নৌপথবিমুখ হচ্ছেন দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পদ্মা সেতু উদ্বোধনের আগে ঈদ মৌসুমে বরিশাল নদীবন্দর থেকে প্রতিদিন দুই ডজন লঞ্চ ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যেত। অথচ এবার ঈদে মাত্র ৯টি লঞ্চ নিয়মিত যাত্রী পরিবহণ করছে। যাত্রী কমে যাওয়ায় একসময় জমজমাট থাকা এই নৌরুট এখন অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়েছে।

লঞ্চ মালিকদের দাবি, একটি বিলাসবহুল লঞ্চের বরিশাল-ঢাকা-বরিশাল এক ট্রিপ পরিচালনায় পাঁচ হাজার থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার লিটার ডিজেল প্রয়োজন হয়। এর সঙ্গে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন, রক্ষণাবেক্ষণ, ঘাট ব্যয় ও অন্যান্য খরচ যোগ হয়ে প্রতি ট্রিপে ব্যয় দাঁড়ায় সাড়ে ছয় লাখ টাকা। অধিকাংশ সময় সেই ব্যয়ও উঠছে না। ফলে প্রতিনিয়ত লোকসান গুনতে হচ্ছে মালিকদের।

যাত্রী সংকটের কারণে ইতোমধ্যে এ রুটের কয়েকটি পুরোনো ও একসময়ের জনপ্রিয় লঞ্চ বিক্রি কিংবা ভাঙারি হিসেবে বিক্রি হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। 

বর্তমানে চলাচলরত অনেক লঞ্চ ব্যাংক ঋণ পরিশোধ কিংবা ব্যবসা টিকিয়ে রাখার বাধ্যবাধকতা থেকেই চালানো হচ্ছে। যাত্রী কমার এই ধারা অব্যাহত থাকলে দক্ষিণাঞ্চলের শতবর্ষী লঞ্চ শিল্প ইতিহাসের অংশ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।

বরিশাল নগরীর বাসিন্দা তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘লঞ্চে সময় বেশি লাগে, খরচও বেশি। অন্যদিকে বাসে কম সময়ে ও তুলনামূলক কম খরচে যাতায়াত করা যায়। তাই মানুষ ধীরে ধীরে লঞ্চ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে একসময় লঞ্চশিল্প হারিয়ে যাবে।’

এমভি মানামী লঞ্চের সুপারভাইজার মো. বাপ্পি বলেন, ‘প্রতি ট্রিপে যে খরচ হয়, অনেক সময় তাও উঠাতে পারি না। গত কুরবানির ঈদের তুলনায় এবার যাত্রী অনেক কম। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে লঞ্চশিল্প টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।’

এমভি সুরভী শিপিং লাইনসের পরিচালক রেজিন উল কবির বলেন, ‘আমরা সবসময় ঈদকে কেন্দ্র করে বছরের কিছু লোকসান কাটিয়ে ওঠার পরিকল্পনা করি। কিন্তু এবার প্রত্যাশার চেয়ে যাত্রী অনেক কম। ফলে সংকট আরও বেড়েছে। তিনি বলেন, নৌপথকে টিকিয়ে রাখতে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও প্রণোদনা প্রয়োজন।’

সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews