বিলাসবহুল ডাচ প্রমোদতরি ‘এমভি হনডিয়াস’ থেকে শুরু হওয়া প্রাণঘাতী হান্টাভাইরাসের সংক্রমণ এবার ছড়িয়ে পড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যেও। জাহাজের সীমানা ছাড়িয়ে বিমানে ভ্রমণকারী এক যাত্রী এবং বিশ্বের অন্যতম দুর্গম দ্বীপ ত্রিস্তান দা কুনহায় নতুন করে দুই সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স শুক্রবার (৮ মে) এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে।
স্পেনের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আলিকান্তে প্রদেশের ৩২ বছর বয়সী এক নারীর শরীরে হান্টাভাইরাসের উপসর্গ পাওয়া গেছে।
আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, ওই নারী বিমানে এমন একজন ডাচ যাত্রীর দুই সারি পেছনে বসেছিলেন, যিনি পরবর্তীতে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি হান্টাভাইরাসের ‘অ্যান্ডিস ভাইরাস’ নামক ধরন হতে পারে, যা সীমিত পরিসরে মানুষ থেকে মানুষে ছড়াতে সক্ষম।
অন্যদিকে, দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরের প্রত্যন্ত ব্রিটিশ দ্বীপ ত্রিস্তান দা কুনহায় একজন ব্রিটিশ নাগরিকের শরীরে এই ভাইরাসের লক্ষণ দেখা গেছে।
তিনি ‘এমভি হনডিয়াস’ প্রমোদতরিটির যাত্রী ছিলেন। মাত্র ২০০ মানুষের বাস করা এই দুর্গম দ্বীপে ভাইরাসের উপস্থিতি স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
১৪৭ জন আরোহী নিয়ে আর্জেন্টিনা থেকে যাত্রা শুরু করা ‘এমভি হনডিয়াস’ বর্তমানে ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের পথে রয়েছে। এই জাহাজের অন্তত ৮ জন আক্রান্তের মধ্যে ৩ জন ইতিমত্যে প্রাণ হারিয়েছেন (একজন ডাচ দম্পতি ও এক জার্মান নাগরিক)।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) নিশ্চিত করেছে যে, আক্রান্তদের মধ্যে অন্তত ৬ জনের শরীরে হান্টাভাইরাসের অস্তিত্ব মিলেছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, এই ভাইরাসটি সাধারণত ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর মাধ্যমে ছড়ালেও ‘অ্যান্ডিস ভাইরাস’ ধরনটি ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে মানুষ থেকে মানুষে ছড়াতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে এই ভাইরাসে আক্রান্তদের মৃত্যুহার ৫০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। তবে সাধারণ জনগণের জন্য এখনই বড় কোনো ঝুঁকির কারণ নেই বলে আশ্বস্ত করেছে সংস্থাটি।
যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) এই প্রাদুর্ভাবকে ‘লেভেল-৩’ জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করেছে।
জাহাজে থাকা মার্কিন নাগরিকদের বিশেষ ফ্লাইটে ওমাহায় নিয়ে নেব্রাস্কা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোয়ারেন্টিনে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রমোদতরি থেকে নেমে যাওয়া যাত্রীদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের কড়া নজরদারিতে রাখা এবং দ্রুত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা জরুরি, যাতে এই প্রাণঘাতী ভাইরাসটি বৃহত্তর জনপদে ছড়িয়ে পড়তে না পারে।