সুদের হার ও ব্যাংকগুলির ‘ডাকাতি’ কারবার

একটি নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য আর কত অপেক্ষা করিতে হইবে? যে নির্দেশনা বাস্তবায়িত হইলে দেশের কর্মসংস্থান বাড়িবে, বাড়িবে প্রবৃদ্ধির গতি, চাঙ্গা হইবে অর্থনীতি। ব্যাংকগুলিরও ঋণ সরবরাহ বাড়িলে আয় বাড়িবে। মুনাফা বাড়িবে। কিন্তু এই সাধারণ একটি বিষয় তাহারা মানিতেছেন না। আসলে কোথায় জট বাঁধিয়াছে তাহাই এখন বড় প্রশ্ন। আর ইস্যুটি হইতেছে ব্যাংকঋণের সুদের হার। বাংলাদেশের মতো এত বেশি হারে ব্যাংক ঋণের সুদ পৃথিবীর অন্য কোথাও নাই। ব্যাংকগুলি এইখানে যেই সুদে ঋণ দেয়, তাহার চাইতেও কম সুদে আমানত রাখে। এই দুইয়ের পার্থক্যকে বলা হইয়া থাকে ‘স্প্রেড’। বর্তমানে ইহা ৫ শতাংশেরও বেশি। অথচ কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলিয়াছে, ইহা ৪ শতাংশের বেশি হইবে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের এই নির্দেশনাও মানা হয় নাই। বিশ্বের অন্যত্র এই পার্থক্য ২/৩ শতাংশের বেশি নহে। বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্সি সুদহার কমাইয়া না আনায় ব্যাংকমালিকদের সমালোচনা করিয়াছেন। তিনি বলিয়াছেন, ব্যাংকগুলি রীতিমত ডাকাতি করিতেছে। তাহার এই বক্তব্যকে নিছক কথার কথা ভাবিবার অবকাশ নাই। কারণ, তিনি নিজেও একজন শিল্প-উদ্যোক্তা। উদ্যোক্তাদের সমস্যাবলি তাহার অজানা নহে। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে তিনি বিরক্তি প্রকাশ করিয়া বলিয়াছেন, সুদের হার কমাইতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনাও মানা হয় নাই। প্রধানমন্ত্রী আরো আগেই সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে আনিবার নির্দেশনা দিয়াছেন। তাহার পরও সুদের হার কমানো হয় নাই। বরঞ্চ, ক্ষেত্রভেদে সুদের হার বাড়াইয়া দিয়াছে ব্যাংকগুলি। তাহারা ভুলিয়া গিয়াছে যে, সুদের হার কমাইবার শর্তেই ৫টিরও বেশি সুবিধা প্রদান করা হইয়াছিল। সমালোচকরা এখন বলিতে শুরু করিয়াছেন যে, সুবিধাগুলি আদায় করিবার জন্যই সুদের হার কমাইবার ‘নাটক’ মঞ্চায়ন করিয়াছেন ব্যাংকমালিকরা।

বাণিজ্যমন্ত্রী যথার্থই বলিয়াছেন যে, ব্যাংকগুলির সুদের হার অত্যধিক এবং বিশ্বের কোথাও এত বেশি হারে সুদ আরোপ করা হয় না। ওয়াকিবহাল মাত্রই জানেন যে, এত বেশি সুদ দিয়া কলকারখানা চালু রাখা সম্ভবপর নহে। অথচ সুদের হার কমাইলে দেশে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি হইবে এবং তাহাতে সাধারণ মানুষও উপকৃত হইবে। ইহা বুঝিবার পরও ব্যাংকগুলির অযৌক্তিক সুদ আরোপ যেন দেশের বাণিজ্য ও শিল্পখাতকে স্থবির করিবার ফন্দি। যাহারা ব্যাংকের ঋণ লইয়া কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখিবার ব্রত নিয়াছেন তাহারা বোঝেন যে, উচ্চ সুদহারের ভোগান্তি কত। শুধু অধিক সুদহারই নহে, সুদের উপর দণ্ড সুদ আরোপ করিয়া উদ্যোক্তাদের কাঁধে বোঝা চাপাইয়া দেওয়া হয়। ইহার সঙ্গে যোগ হয় জ্বালানি সংকট। তাহাতে উত্পাদনের গতি স্তিমিত হইয়া শিল্প রুগ্ন হইবার উপক্রম হয়। অনিচ্ছাসত্ত্বেও উদ্যোক্তাকে নিতে হয় ‘খেলাপি গ্রাহকের তকমা’। কিন্তু কাহাদের দোষে কিংবা কোন পরিস্থিতিতে তিনি খেলাপি হইলেন— তাহা বিবেচনায় রাখা হয় না।

দণ্ড সুদ লইয়া যদিও অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলিয়াছেন, আগামী মে মাস হইতে ‘দণ্ড সুদ’ যুগের অবসান ঘটিবে। গণনা করা হইবে সরল সুদহার। তিনি আরো বলিয়াছেন, ভালো বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে ব্যক্তির একক ঋণসীমা থাকিবে না। তাহার এই উদ্যোগকে ইতোপূর্বে আমরা স্বাগত জানাইয়াছিলাম। এখন অপেক্ষা তাহা কার্যকর করিবার। সেটি অর্থমন্ত্রী মহোদয় করিবেন— এই বিশ্বাস আমাদের রহিয়াছে। কিন্তু ঋণের সুদহার সিঙ্গেল ডিজিট করিবার দাবিটি আরো জোরালো হইয়াছে। প্রধানমন্ত্রীও সর্বশেষ বলিয়াছেন, ‘দেশে শিল্পায়নের বড় বাধা হইতেছে ব্যাংকঋণ। তিনি বলেন, সুবিধা দিবার পরও যাহারা সুদের হার কমায় নাই, তাহাদের অন্য ব্যবসাও রহিয়াছে। তাহারা ঠিকমত ট্যাক্স দেয় কিনা, সে জায়গাটায় হাত দিতে হইবে।’ প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যে আমরা আশান্বিত। নিশ্চয়ই দেশের স্বার্থে, অর্থনীতির স্বার্থে, দ্রুততার সহিত সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে আসিবে এবং ইহার জন্য বেশিদিন অপেক্ষা করিতে হইবে না বলিয়াই আমাদের বিশ্বাস।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews