কোনো এক মানবীকে দুই আনা চিনতে পেরে ভেবেছে পুরোটাই চিনে ফেলেছে, অতঃপর লিখেছে ষোলো আনার একটি কবিতা- আমরা যারা লেখাপড়া জানা পুরুষ, তাদের অনেকেই তেমন কবি ছিলাম যৌবনে। কিন্তু এই সামান্য কাব্যগুণ বিচার করে জাতীয় কবিতা পরিষদের রংপুর বিভাগীয় নেতৃবৃন্দ কেন এই লেখককে তাদের কবিতা উৎসবে প্রধান অতিথি নির্বাচন করেছিলেন- বড়সড় এক প্রশ্ন বটে। রংপুরের লোক তো কী হয়েছে! খাতিরটা একটু বেশি হয়ে গেল না? যা হোক।

‘জাত নিমের পাতা’র নিয়মিত পাঠক বগুড়ার হাবীব কেমন করে যেন জেনে গিয়েছিল এই উৎসবের কথা। সে ফোনে সহৃদয় আব্দার করে, ঢাকায় ফেরার পথে বগুড়ায় তার সঙ্গে লাঞ্চ অথবা ডিনার করতেই হবে। লেখালেখি যদি দ্রব্য হয় (প্রোডাক্ট), তাহলে পাঠক তার উপজাত দ্রব্য (বাই-প্রোডাক্ট)। এই উপজাত দ্রব্য ছাড়া মূল দ্রব্যের মূল্য কী! আব্দার রক্ষা করতে হয় তাই।রাত দশটার দিকে বগুড়া পৌঁছেই দেখা গেল, একটি ছিমছাম পরিচ্ছন্ন রেস্টুরেন্টে দুটো টেবিল জোড়া লাগিয়ে একটা আয়তক্ষেত্র বানানোর পর তার চারপাশ ঘিরে বসে আছে হাবীব ও তার কয়েক সঙ্গী। এখানেই সারতে হবে ডিনার। জেলা বা উপজেলাবাসীরা রাজধানীবাসীকে কেন এতটা সমীহ করে, বোঝা যায় না। আবার সেই রাজধানীবাসী যদি হয় সাংবাদিক, সেক্ষেত্রে সেটা হয়ে পড়ে যেন অনেকটা এমপ্লয়ার ও এমপ্লয়ির সম্পর্ক।রাজনীতি-ব্যবসার তিনি সবই জানেন ও বোঝেন, সুতরাং তার কথা মান্য করতে হবে। মিথ্যা কথা। বরং অনুমান করি, পেরিফেরির লোকেরাই দেশটাকে ভালো বুঝতে পারে। প্রদীপের নিচটায় আলো থাকে না, তার চতুর্দিকেই ছড়ায় আলো। তেমন রাজধানীকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে আছে যে বাংলাদেশ, রাজধানীবাসীর চেয়ে সেই বাংলাদেশের মানুষই তাদের ব্যবহারিক জীবনের ঘাত-প্রতিঘাত ও কেন্দ্রের সঙ্গে তাদের টানাপড়েনের মধ্য দিয়ে দেশটাকে বুঝতে পারে বেশি। তাদের দেখাটাই অবজেক্টিভ, রাজধানীবাসীরটা বলা যায় সাবজেক্টিভ।টেবিলে খাবার সাজানো হচ্ছে আর হাবীব ও তার সহচররা দেশের রাজনীতি ও আগামী নির্বাচন বিষয়ে এই লেখকের ধারণাগুলো জানতে উৎসুক হয়ে পড়ছে। তার মানে আমাকে ছোটখাটো একটা বক্তৃতা করতে হবে। গল্পটা মনে এলো, খাওয়া শুরুর আগে সেটাই তাদের বলি প্রথমে।প্রাচীন রোমে সম্রাট-সম্রাজ্ঞীদের কিছু নিষ্ঠুর খেলা ছিল। যেমন, তারা বসতেন গ্যালারিতে আর দুই গ্লাডিয়েটরকে (পেশাদার মল্লযোদ্ধা) স্টেডিয়ামে লাগিয়ে দেয়া হতো পরস্পর যুদ্ধ করতে। একজন আরেকজনকে হত্যা করছে আর সেই হত্যাদৃশ্য উপভোগ করতেন তারা। আরেকটি খেলা ছিল- যখন যাকে ইচ্ছা, বেঁধে রাখা হতো স্টেডিয়ামের মধ্যখানে। এরপর ছেড়ে দেয়া হতো এক ক্ষুধার্ত সিংহকে। সিংহ লোকটিকে ছিঁড়ে ছিঁড়ে খাচ্ছে আর তাই দেখে আনন্দ-উল্লাসে ফেটে পড়তেন তারা। গল্পটা এমন : একবার এক ভিনদেশী কবিকে তেমন বেঁধে রেখে ছেড়ে দেয়া হল সিংহ। সেটি তেড়ে আসছে কবির দিকে। তাকে খামচে ধরবে, ঠিক তখন কবি সিংহটির কানে কানে কী যেন বললেন। দেখা গেল, সিংহ তাকে খাওয়া বাদ দিয়ে লেজ গুটিয়ে উল্টোদিকে দৌড়ে পালাচ্ছে। অভাবিত দৃশ্য। বাঁধন খুলে কবিকে নিয়ে আসা হল গ্যালারিতে। সম্রাট বললেন- তোমাকে ছেড়ে দেয়া হবে, তবে তার আগে সত্যি করে বলতে হবে সিংহটাকে তুমি কী বলেছিলে? কবি বললেন- সম্রাট, আমি তাকে তেমন কিছুই বলিনি। শুধু বলেছি- খাচ্ছো খাও; কিন্তু মনে রেখো এরপর তোমাকে একটি বক্তৃতা করতে হবে।সবাই হেসে ফেলে, হাবীব বলে- না, না আপনাকে পালাতে হবে না। বক্তৃতাও দিতে হবে না, যত খুশি খেতে পারেন।২.হাবীবদের ওই সমাবেশে কী-ই বা এমন বলা যেত! বর্তমান বাংলাদেশে প্রায় সবাই নিজ নিজ বিবেচনা দিয়েই রাজনীতি বুঝে থাকে। একটা সময় ছিল, যখন জনমত প্রভাবিত করার একটা ব্যাপার থাকত। সেই যুগ হয়েছে বাসি। এখন কেউ যদি অন্যের কাছে রাজনীতিটা বুঝতে চায়, ধরে নিতে হবে সে আসলে নিজের অবস্থানটা অন্যের মুখ থেকে কনফার্ম করতে চাচ্ছে। রহস্যময় মানুষের আরেকটি রহস্য এমন যে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে তার কথা ও আচরণ দিয়ে মনের গহিনের সিদ্ধান্তটি বোঝা যায় না। চাকরি খুঁজে খুঁজে ক্লান্ত, অবসন্ন দেহে যখন মনে হয় আত্মহত্যাই মুক্তির পথ, এমন সময় হাতে একটা নিয়োগপত্র এলে সেই বেকার আদিখ্যেতা করে বন্ধুদের বলে- জয়েন করা ঠিক হইবো দোস্ত? সে যাক।দ্বিতীয়ত, রাজনীতিটা এখন আর আদর্শ অথবা মেনিফেস্টোভিত্তিক নয় বলে কোন দলের প্রতি সমর্থন জানাতে হবে, সে ব্যাপারে তৈরি হয়েছে নানারকম নতুন নিয়ম। এরূপ একটি নিয়ম এমন- ‘ক’-য়ের সঙ্গে ‘খ’-য়ের জমিজমা অথবা অন্য কোনো স্বার্থকেন্দ্রিক বিরোধ রয়েছে, তো ‘ক’ যদি নৌকা, ‘খ’ তাহলে ধানের শীষ। অতঃপর নৌকা যদি ক্ষমতাসীন, ‘খ’ অপেক্ষা করবে কবে ধানের শীষের পালা শুরু হবে। আবার এমনও হয়, চাচাতো ভাই আওয়ামী লীগ, তো আমি বিএনপি। না, এটা যে সব ক্ষেত্রেই আপনে-আপনে শত্রুতা তা নয়, হতে পারে এটা আপনে-আপনে সমঝোতা, বিপদের দিনে পারস্পরিক রক্ষাকবচ।অবশ্য গোপালগঞ্জ ও বগুড়ায় সাধারণ মানুষের মেরুকরণটা হয় ভিন্ন পদ্ধতিতে। এ দু’য়ের একটিতে নৌকা ও অন্যটিতে ধানের শীষের একচেটিয়াত্ব চলছে বহুদিন থেকেই এবং তা বঙ্গবন্ধু ও জিয়ার ভাবমূর্তির ভিত্তিতে। আমি যেহেতু বগুড়ার এক রেস্টুরেন্টে বসে খাচ্ছিলাম, সেখানে নিরপেক্ষতা অথবা শুভবুদ্ধির ব্যবহারিক কোনো উপযোগিতা নেই, মৌখিক কিছু থাকলেও থাকতে পারে। গোপালগঞ্জের ক্ষেত্রেও একই কথা খাটবে। অতঃপর যে জনমত ধ্রুব (constant), সেখানে রাজনৈতিক বক্তৃতা দেয়ার কোনো মানে হয় না।বুদ্ধিমান পাঠক হয়তো এরই মধ্যে দুটি প্রশ্ন ঠিক করে ফেলেছেন। এক নম্বরটি, গোপালগঞ্জে কি ধানের শীষে এবং বগুড়ায় নৌকা মার্কায় ভোট পড়ে না? দ্বিতীয় প্রশ্ন, ২০০৮-এর নির্বাচনে বগুড়ায় আওয়ামী লীগ দুটি আসন তাহলে পেল কীভাবে? উত্তর হচ্ছে- গোপালগঞ্জে ধানের শীষে ও বগুড়ায় নৌকায় যৎকিঞ্চিৎ ভোট পড়ে বটে; কিন্তু বর্তমান ওয়েস্টমিনস্টার গণতন্ত্রে সেই ভোটের এক পয়সা মূল্য নেই, দেশে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের গণতন্ত্র চালু থাকলে আমরা সেই ভোটের হিসাব কষতে পারতাম।২০০৮ সালে বগুড়ায় নৌকা যে দুটি আসন পেয়েছে, সেটাকে বলে নিয়মের ব্যতিক্রম। ইংরেজিতে বললে- exception justifies rule- যে নিয়মের ব্যতিক্রম নেই সেটা কোনো নিয়মই নয়, তাকে বলে শাশ্বত সত্য। পৃথিবী সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে অথবা মানুষ একদিন মরবেই যেমন।জাত্যাভিমানী ফরাসি দার্শনিক ভলটেয়ার ব্রিটিশ নাট্যকার শেকসপিয়রের ট্রাজেডি নাটকগুলো সম্পর্কে বলেছিলেন- আমি চা-খোর, অসভ্য, মাতাল ব্রিটিশ নই যে, হ্যামলেট দেখে কাঁদব, ওটা দেখলে আমার হাসি পায়। টেলিভিশনের পর্দায় কোনো আলোচক যখন সিরিয়াস মুডে তার নিজের অথবা পছন্দের দলের রাজনীতিটা ব্যাখ্যা করতে করতে আমাদেরকেও সিরিয়াস করে তুলতে চান, তখন তিনি জানতে পারেন না যে, আমরা তখন হেসে চলেছি। কে কাকে রাজনীতির জ্ঞান দেয়! তিনি আরও জানেন না, এখনকার পাঠক পত্রিকার কলামের দু’-এক প্যারা পড়েই (হয়তো এই কলামটিও) হাতের ওই কাগজটি ছুড়ে ফেলে দেয় অথবা পর্দায় আলোচকের চেহারা দেখেই চলে যায় গানের চ্যানেলে। অবশ্য দাম্পত্যের অশিক্ষিত একপক্ষের অপকাণ্ডে শিক্ষিত অপরপক্ষ যেমন কখনও কখনও বিনোদিত হয়, ঠিক তেমন বিনোদনের আশায় কেউ কেউ ধরে রাখে চ্যানেলটি।ডিনারের হোস্ট হাবীব যে আগামী দিনের রাজনীতি, বিশেষত এক বছর পর অনুষ্ঠেয় নির্বাচন সম্পর্কে জানতে চেয়েছিল, সে ব্যাপারে কী এমন বলার ছিল! দেশটা আমেরিকা হলে না হয় বলা যেত- ৬ নভেম্বর নির্বাচন হবে আর সরকারের অভিষেক ঘটবে পরের বছর ২০ জানুয়ারি (আমেরিকায় প্রতি চার বছর পর এমনটিই ঘটে থাকে)। ভারত হলেও বলতে পারতাম- নির্ধারিত সময়েই হবে নির্বাচন অথবা পরিস্থিতিবিশেষে যে কোনো সময় হতে পারে মধ্যবর্তী নির্বাচন এবং সেই নির্বাচনে গোলযোগ অথবা কারচুপির নানা অভিযোগ সহকারেই একটা ফল বেরোবে এবং রাজনৈতিক দলগুলো মেনে নেবে সেই ফলাফল।হ্যাঁ, আমরা যে দেশটায় বসবাস করছি, সেটা ভবিষ্যদ্বাণীঅযোগ্য (unpredictable) এক জনপদ। খামখেয়ালিতে ভরা এই জনপদের ভবিষ্যতের যাত্রাপথটি অতিশয় বঙ্কিম, সরলরেখার পথ চেনে না সে। একটি দেশের পক্ষে জ্যামিতির সরলরেখায় পথচলা সম্ভব নয় বোঝা গেল; কিন্তু এই পথ এতটা বক্র হয় কী করে? একটা সমাজ এতটা অস্থির, এতটা নাজুক, আবার এত বেপরোয়া হতে পারে- ভাবা যায় না। গোছানো সংসার তছনছ হয়ে যায় এখানে, কখনও আবার গুছিয়ে নেয়ার সময়টুকুও পাওয়া যায় না।কী কাণ্ড দেখুন। স্বাধীনতার প্রকৃত স্বাদ আমরা পেয়েছিলাম ’৭২-এর ১০ জানুয়ারি, যেদিন বঙ্গবন্ধু ফিরে এসেছিলেন পাকিস্তানি কারাগার থেকে। সেদিনের সেই পড়ন্ত বিকেলে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের লাখো মানুষের মধ্যে একজনও কি ভেবেছিলেন বক্তৃতারত নবরাষ্ট্রটির এই স্থপতি, আমাদের প্রাণের মানুষ মাত্র ৩ বছরের মাথায় একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করতে বাধ্য হবেন এবং তাকে করা হবে হত্যা? উত্তেজিত অবস্থার ভাবনা আর ঠাণ্ডা মাথার চিন্তায় পার্থক্য অনেক। উত্তেজিত অবস্থায় যে দোষকে মনে হয় থাই পাহাড়ের চেয়ে ভারি, ঠাণ্ডা মাথার ভাবনায় তা পাখির পালকের চেয়ে হাল্কা। হত্যাকারীরা ঠাণ্ডা মাথায় একবারও ভাবেনি- কাকে হত্যা করছি, কেন করছি? একদলীয় শাসন যদি দোষও হয়ে থাকে (‘যদি’ বলা হল এজন্য যে, মানুষের কী এমন সাধ্য তাৎক্ষণিকভাবে কোনোকিছুর ভালো-মন্দের বিচার করে), তাহলেও হত্যাই কি তার প্রতিষেধক? আমরা কথায় কথায় বলি- আফ্রিকার জঙ্গল- অথচ মুগাবের মতো একনায়ককে হত্যা করা হয়নি; ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে মাত্র এবং তা সসম্মানে। তবে কি বাংলাদেশ জঙ্গলেরও অধিক কোনো ভূমি? আবার দেখুন, বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারকে হত্যার সময় খেয়াল চাপল ওই শিশুটিকেও মেরে ফেলতে হবে, আর অমনি গুলি করা হল রাসেলকেও!এই বাংলাদেশে কে আগাম জেনেছিল যে, সেনাবাহিনীর দুই কর্মকর্তা ক্ষমতা গ্রহণ করে জন্ম দেবে দুটি রাজনৈতিক দল এবং দল দুটি মিলে প্রতিনিধিত্ব করতে থাকবে দেশের প্রায় অর্ধেক মানুষের? আবার কোন্ সেই জ্যোতিষী অথবা হস্তরেখাবিদ, যিনি মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডারদের প্রায় অর্ধেকের হাতের রেখা দেখে বলে দিয়েছিলেন, স্বাধীনতার মাত্র ১০ বছরের মাথায় তারা একে একে ঢলে পড়বেন অপমৃত্যুর কোলে? স্বাধীন রাষ্ট্রের প্রথম অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট ও প্রথম প্রধানমন্ত্রী একদিন জেলে যাবেন, সেটাই ভাবেনি কেউ, জেলের অভ্যন্তরে গুলি খেয়ে মরবেন- সে তো অনেক পরের কথা। এই লেখক সেই গণকেরও মুখটা একটু দেখতে চায়, যিনি বলেছিলেন, একটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের ধ্বংস করতে দলটির জনসভায় শবে বরাতে বাচ্চাদের আতশবাজির মতো মুহুমর্হু ফাটানো হবে গ্রেনেড।অতঃপর পাঠক হাবীবকে বলতেই হয়- এই লেখককে সামান্য করুণা করে মাফ করে দেয়া যায় না বাপ? নিজের মর্যাদা অন্যে নষ্ট করলে কিছু করার থাকে না; কিন্তু একমাত্র আহাম্মকই বুঝি নিজের সম্মান নিজে নিচে নামায়। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আগামী দিনগুলোয় কী ঘটবে- বিশ্লেষকের ভান করা তাই বিপজ্জনক। গরুর রশি ধরে টানবো একদিকে, গরু যাবে আরেক দিকে। গরুর উপমা যখন দেয়াই হল, তখন আরেকটু বলা যায়। যে গরু একবার বসে যায়, তাকে আবার দাঁড় করানো যায় না সহজে, এমনকি লেজে মোচড় দিলেও। দেশের রাজনীতিটাও বসে গেছে।তবে একে দাঁড় করানোর একটা উপায় আছে বৈকি। আর সেটি হল রাজনীতির সব পক্ষকেই যোগ করার রাজনীতি গ্রহণ করতে হবে, যেটাকে আমরা বলছি ইনক্লুসিভ রাজনীতি অথবা ইনক্লুসিভ নির্বাচন। এখন যা চলছে সেটা বিয়োগের রাজনীতি, ভাগ করার রাজনীতি এবং তা করছে রাজনীতির দুটি বড় পক্ষই। অথচ আমরা ছোটবেলায় দেখেছি যোগ অঙ্কের ফল মেলানোটাই সবচেয়ে সোজা। এই অঙ্কে বুদ্ধি কম লাগে, থাকে না টেনশনও।আবারও আফ্রিকা! ম্যান্ডেলা আমাদের শিখিয়েছেন কীভাবে রাজনীতির যোগ অঙ্ক কষতে হয়। সাদায়-কালোয় যোগ। তিনি বুঝিয়েছিলেন স্বার্থপর হতে মানা নেই, তবে পরার্থকে বাদ দিয়ে নয়। আফ্রিকায় বর্ণবাদের বিলুপ্তি মানে সাদাদের গায়ে ব্রাশ দিয়ে কালো রঙ মাখানো নয়, কিংবা নয় কালোর গায়ে সাদা রঙের ছোপ বসানো। এ হল নিজের নিজের রঙ ঠিক রেখে বিচিত্র সাজে গোটা মানবজাতিকেই রাঙিয়ে তোলা। গত ৪৬ বছর ধরে প্রতিপক্ষ গ্রাসের যে রাজনীতি চলছে বাংলাদেশে, তার নাম দেয়া যেতে পারে চরম আধিপত্যবাদ। এই আধিপত্যবাদকে চ্যালেঞ্জ করে সাধারণ মানুষ তাদের শ্রমে-ঘামে-মেধায় শত বৈষম্য সত্ত্বেও রচনা করেছে অর্থনীতির অন্যরকম এক ইতিহাস। ম্যান্ডেলার পাঠশালায় ছাত্র হতে পারলে আমাদের রাজনীতিকদের একেকটি জীবন ধন্যই হয়ে যেত না শুধু, একটা যা-তা বাহারি কাণ্ড ঘটে যেত এই দেশে।মাহবুব কামাল : সাংবাদিক



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews