অবিশ্বাস্য নাটকীয়তার মধ্যে মরক্কোকে ১-০ গোলে হারিয়ে আফ্রিকা কাপ অব নেশনস (এএফকন) শিরোপা জিতেছে সেনেগাল। ফাইনালে বিতর্কিত পেনাল্টি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এক পর্যায়ে মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যায় সেনেগালের খেলোয়াড়রা, তবে পরে ফিরে এসে অতিরিক্ত সময়ে জয় নিশ্চিত করে তারা।
রোববার (১৯ জানুয়ারি) ফাইনালের অতিরিক্ত সময়ের চতুর্থ মিনিটে (৯৪তম মিনিট) গোলটি করেন মিডফিল্ডার পাপে গুয়েই। এর আগে নির্ধারিত সময়ের শেষ মুহূর্তে পাওয়া পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন মরক্কোর তারকা ব্রাহিম দিয়াজ।
নির্ধারিত সময়ের ইনজুরি টাইমে ভিএআর পর্যালোচনার পর মরক্কোকে পেনাল্টি দেন কঙ্গোলিজ রেফারি জ্যঁ-জাক নডালা। কর্নার থেকে আসা বল ক্লিয়ার করার সময় সেনেগালের ফুলব্যাক এল হাজি মালিক দিউফের সঙ্গে সংঘর্ষে পড়ে যান দিয়াজ। সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর মাঠে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সেনেগালের কোচ পাপে বোনা থিয়াও খেলোয়াড়দের মাঠ ছাড়ার নির্দেশ দেন। তবে দলের অধিনায়ক সাদিও মানের অনুরোধে কিছুক্ষণ পর তারা মাঠে ফিরে আসেন।
১৪ মিনিটের দীর্ঘ বিলম্বের পর নেওয়া পেনাল্টিতে দিয়াজ প্যানেনকা স্টাইলে শট নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু দুর্বল সেই শট সহজেই ধরে নেন সেনেগাল গোলরক্ষক এদুয়ার মেন্দি।
পেনাল্টি মিসের পর থেকেই গ্যালভানাইজড সেনেগাল যে গোল করবে, সেটিই যেন অনিবার্য হয়ে ওঠে। অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই সেটাই বাস্তব হয়। মাঝমাঠে বল কেড়ে নিয়ে ইদ্রিসা গানা গুয়েইয়ের পাসে আক্রমণে যান পাপে গুয়েই। মরক্কোর অধিনায়ক আশরাফ হাকিমিকে পেছনে ফেলে বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত শটে গোলরক্ষক ইয়াসিন বোনুর জাল কাঁপান ভিয়ারিয়াল মিডফিল্ডার।
৬৬ হাজার ৫২৬ দর্শকের প্রিন্স মৌলে আবদেল্লাহ স্টেডিয়ামে তখন নেমে আসে স্তব্ধতা। হতাশায় ভেঙে পড়েন মরক্কোর খেলোয়াড়রা, বিশেষ করে দিয়াজ, যাকে পরে বদলিও করা হয়।
অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে নায়েফ আগুয়ের্দের হেড ক্রসবারে লেগে ফেরত গেলে ম্যাচে ফেরার শেষ সুযোগও হাতছাড়া হয় স্বাগতিকদের। ফলে নিজেদের মাঠে ৫০ বছরের শিরোপা খরা কাটানোর স্বপ্ন ভেঙে যায় মরক্কোর।
ম্যাচ শেষে সেনেগাল আরও স্বস্তিতে থাকতে পারত, যদি অতিরিক্ত সময়ের শেষ দিকে শেরিফ এনদিয়ায়ে সহজ সুযোগ নষ্ট না করতেন। তবুও শেষ পর্যন্ত লিড ধরে রেখে জয় নিশ্চিত করে তারা।
গত তিন আসরের মধ্যে এটি সেনেগালের দ্বিতীয় এএফকন শিরোপা। ২০২২ সালে ইয়াউন্ডেতে মিসরকে টাইব্রেকারে হারিয়ে প্রথমবারের মতো শিরোপা জিতেছিল ‘লায়ন্স অব তেরাঙ্গা’।
এই জয়ের মাধ্যমে জুনে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপের দিকেও চোখ রাখছে সেনেগাল। একই সঙ্গে সাদিও মানেকে আরেকটি এএফকনে খেলার জন্য রাজি করানোর চেষ্টাও থাকবে, যদিও তিনি জানিয়েছেন- এটাই তার শেষ এএফকন ফাইনাল।
ফাইনালে ঘটে যাওয়া বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি নিয়ে তদন্ত হলে সেনেগাল দল ও তাদের সমর্থকদের আচরণ, পাশাপাশি আয়োজক মরক্কোর ব্যবস্থাপনাও খতিয়ে দেখা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ম্যাচ শেষে পাপে গুয়েই বলেন, ‘আমরা এখানে জিততে চেয়েছিলাম। ম্যাচটা খুব কঠিন ছিল, কিন্তু আমরা সবকিছু উজাড় করে দিয়েছি।’
মরক্কোর কোচ ওয়ালিদ রেগরাগুই বলেন, ‘শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি পেলে জয় খুব কাছেই মনে হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ফুটবল আপনাকে বাস্তবতায় ফিরিয়ে আনে। যা ঘটেছে, তাতে আফ্রিকান ফুটবলের যে চিত্র উঠে এসেছে, তা হতাশাজনক।’