ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটে ‘এক দেশ এক রেট’ কেন হইবে না?

সব গ্রাম উন্নীত হইবে শহরে—ইহা বর্তমান সরকারেরই অন্যতম পরিকল্পনা। গ্রামকে শহর বানাইবার অন্যতম অর্থ হইল গ্রামে ডিজিটাল সুবিধা পৌঁছাইয়া দেওয়া। সুতরাং শহরে ইন্টারনেটের গতি যত বেশি হইবে, গ্রামেও সেই গতির ব্যবস্থা করিতে হইবে। নচেত্ গ্রাম কী করিয়া শহর হইবে? কিন্তু ইন্টারনেটের ক্ষেত্রে আমরা বিপরীত চিত্র দেখিতে পাইতেছি। শহরের তুলনায় গ্রামে ইন্টারনেটের গতি কম, আবার খরচও বেশি। খরচের ক্ষেত্রে শহরের বাহিরে কেন বাড়তি অর্থ ব্যয় করিতে হইবে? সম্প্রতি ডাক, টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি মন্ত্রী ইহাকে অগ্রহণযোগ্য হিসাবে অভিহিত করিয়াছেন। তিনিও মনে করেন, এই ক্ষেত্রে এক দেশ এক রেট করিতে হইবে।

সাধু কথা। কিন্তু ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলির সংগঠন আইএসপি এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি) বলিতেছে অন্য কথা। আইএসপিএবি-এর সভাপতি বলিয়াছেন যে, তাহারা ঢাকার বাহিরে ইন্টারনেট সেবা লইয়া যাইতে পারিতেছেন না, কারণ সেইখানে ট্রান্সমিশন খরচ বেশি হয়। ঢাকায় যেই সেবা তাহারা এক হাজার টাকায় দিতে পারেন, ঢাকার বাহিরে তাহার খরচ পড়ে আড়াই গুণ বেশি। তাহারা ইহাও জানাইয়াছেন যে, ট্রান্সমিশন খরচ বেশি হইবার পাশাপাশি স্থানীয় মাস্তানদের জন্য কোয়ালিটি অব সার্ভিস নিশ্চিত করিতে পারিতেছে না তাহারা। তবে মন্ত্রী জানাইয়াছেন, ট্রান্সমিশন কোম্পানি এনটিটিএনদের জন্য যে খরচ বাড়িতেছে তাহা যেন গ্রাহকের ওপর না পড়ে। এবং এই ভর্তুকি সরকার দিবে নাকি অন্য কোনো ব্যবস্থা হইবে—তাহা ঠিক করিতে হইবে।

প্রকৃত অর্থে, ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটকে সর্বজনীন বা ইউনিভার্সাল হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়া হইয়াছে প্রায় সকল দেশেই। আমাদের ২০০৯ সালের নীতিমালায় বলা হইয়াছে প্রতিযোগিতামূলক বাজার নির্ধারণ করিবার কথা, যাহার মাধ্যমে ব্রডব্যান্ড নীতিমালার উদ্দেশ্য সফল হইবে। কিন্তু আমাদের দেশে ইন্টারনেট বাজার প্রায় একপ্রকার ছাড়িয়া দেওয়া হইয়াছে মোবাইল কোম্পানিগুলির উপরে। অথচ মোবাইল কোম্পানিগুলির কাজ ছিল সেলফোনের মাধ্যমে ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিস হিসাবে ভয়েসের পাশাপাশি ইন্টারনেট সেবা প্রদান করা, যাহা গ্রাহকের বিশেষ প্রয়োজনে ইন্টারনেটের চাহিদা মিটাইবে। আমাদের গ্রামাঞ্চলের বেশিরভাগ মানুষই বেসিক ফোন ব্যবহার করেন, যাহার মাধ্যমে কেবল টু-জি নেটওয়ার্কে ভয়েজ কল করা সম্ভব। গ্রামাঞ্চলে ফোর-জি দূরের কথা থ্রি-জি নেটওয়ার্কও দুর্লভ বস্তু। তাহা ছাড়া, শহরাঞ্চলেও থ্রি-জি কিংবা ফোর-জি নেটওয়ার্ক মানসম্মত নহে। মোবাইল কোম্পানিগুলি এই সেবার ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত স্পেকট্রার্ম ক্রয় করে নাই। ফলে মানসম্মত গতির ইন্টারনেট নিশ্চিত করিতে পারিতেছে না। অন্যদিকে গ্রামে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের খরচ শহরের তুলনায় বেশি। এমতাবস্থায় গ্রামকে শহরে পরিণত করা তথা গ্রামে শহরের সুবিধা পৌঁছাইয়া দেওয়া সম্ভব হইবে কী করিয়া?

গ্রামপর্যায়ে সাশ্রয়ীমূল্যে ব্রডব্যান্ড বা উচ্চগতির ইন্টারনেট দেওয়া সম্ভব হইলে গ্রামের কর্মক্ষম তরুণসমাজ ইহার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করিতে পারিবে। রেমিটেন্স বিনিময়, পাড়ায় পাড়ায় হটস্পট কিংবা দূরস্বাস্থ্য সেবা—এইসকল বিষয় নিশ্চিত করা সম্ভব হইলে গ্রামের রূপ বদলাইয়া যাইবে, তাহা নিশ্চিত করিয়া বলা যায়। সুতরাং ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের ক্ষেত্রে ‘এক দেশ এক রেট’ বাস্তবায়ন করা জরুরি।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews