শ্রমিক অসন্তোষ বন্ধে নারী নেতৃত্ব প্রয়োজন বলে মনে করেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারিং ও এক্সপোর্টিং অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) সভাপতি রুবানা হক। তিনি বলেন, ‘ট্রেড ইউনিয়নগুলোর নেতৃত্বে নারীরা এলে শ্রমিক অসন্তোষ ও অনাকাঙ্খিত ঘটনা কমে আসবে।’ গুলশানে নিজ বাসায় বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রসঙ্গত, রুবানা হক ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র প্রয়াত আনিসুল হকের স্ত্রী। তিনি বিজিএমইএ’র ইতিহাসে প্রথম নারী সভাপতি।

রুবানা হক বলেন, ‘ট্রেড ইউনিয়নগুলোর সঙ্গে যত বেশি নারী শ্রমিক যুক্ত থাকবে, গার্মেন্টস খাতের জন্য ততই মঙ্গল হবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে রুবানা হক বলেন, ‘যদি এমন আইন করা যেতো, যেসব কারখানায় ৮০ শতাংশ নারী আছে, সেখানে নেতৃত্ব দেবেন একজন নারী, তাহলে এই খাতের চেহারাই বদলে যাবে।’

রুবানা হক মনে করেন, ‘শ্রমিক অসন্তোষ কমিয়ে আনতে হলে গার্মেন্টস মালিকদের সরাসরি শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলতে হবে। শ্রমিক ও মালিক কথা বলতেই হবে। এটার কোনও বিকল্প নেই।’ ঈদ সামনে রেখে যেন কোনও ধরনের শ্রমিক অসন্তোষ না হয়, সে জন্য শ্রমিকদের সঙ্গে মালিকদের আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

কারখানাগুলোয় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নারীদের সুপারভাইজার করতে পারলেও পোশাক খাতের জন্য মঙ্গল হবে বলে মনে করেন রুবানা হক। তিনি বলেন, ‘এই খাতে অধিকাংশই নারী শ্রমিক। প্রত্যেক ফ্যাক্টরিতে যখন নারী সুপারভাইজার হবে, তখন নারী শ্রমিকরা আরও ভালো করতে পারবে। এছাড়া আমরা গার্মেন্টস ব্যবসায়ীরাও নারী উদ্যোক্তাদের প্রমোট করতে পারি।’

বিজিএমইএ’র প্রধান মনে করেন, শ্রমিকদের জন্য কিছু করতে হলে মালিকদের জন্য ইচ্ছেটাই বড়। কোনও গার্মেন্টস মালিক যদি ইচ্ছে করেন, তাহলেই হয়। খুব বেশি টাকাও লাগে না। কারণ, শ্রমিক যখন নিশ্চিত থাকে যে তার বাচ্চাটা স্কুলে যেতে পারছে, তখন সে ফ্যাক্টরির জন্য মনপ্রাণ উজাড় করে কাজ করে। গার্মেন্টস মালিকরা যদি প্রত্যেক ফ্যাক্টরিতে ফেয়ার প্রাইস শপ, স্কুল এবং মেধাবী শ্রমিকদের উচ্চশিক্ষার ব্যবস্থা করতে পারেন, তাহলে শ্রমিকদের জীবনমান বদলে যাবে।’

প্রসঙ্গত, রুবানা হক তার মালিকানাধীন মোহাম্মদী গ্রুপের বিভিন্ন গার্মেন্টসের ৯ জন নারী শ্রমিককে চট্টগ্রামে অবস্থিত এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন-এ উচ্চশিক্ষার জন্য পাঠিয়েছেন। উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাওয়া কর্মীদের কোর্স চলার সময় মোহাম্মদী গ্রপ তাদের থাকা-খাওয়া, নিয়মিত বেতন-বোনাসসহ নানা সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে। শ্রমিকদের সন্তানদের জন্য মোহাম্মদী গ্রুপের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের পাশে একটি করে স্কুলও প্রতিষ্ঠা করেছে। সেখানে শ্রমিকরা তাদের সন্তানদের পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত বিনা বেতনে পড়াতে পারছেন। স্কুলে থাকার সময় তাদের বিনামূল্যে খাবারও দেওয়া হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে রুবানা হক বলেন, ‘এই ছোট ছোট জিনিসগুলোই শ্রমিকের জীবনটাকে বদলে দেয়।’ তিনি শ্রমিকদের উচ্চশিক্ষায় এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের মতো দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

রুবানা হক বলেন, ‘এখন একটি বিশ্ববিদ্যালয় শ্রমিকদের উচ্চশিক্ষার দায়িত্ব নিয়েছে।’ তবে আরও দুটি বিশ্ববিদ্যালয় শ্রমিকদের উচ্চশিক্ষার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে বলেও তিনি জানান।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews