খুলনার সরকারি আযমখান কমার্স কলেজের পেছনে ভাড়া বাড়িতে থাকেন অর্ণবরা। পিতা আব্দুস সোবহান বেসরকারি সংস্থা প্রশিকার সিনিয়র প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর। মা গৃহিনী। ছোট ভাই অর্কণ প্রতিবন্ধী। এমন এক পরিবারের ছেলে ইশমাম ইশমাম সাকীব অর্ণব। এ বছর মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় সারা দেশে প্রথম হয়ে নিজেকে সমাসীন করেছেন অনন্য উচ্চতায়। খুলনার ফায়ার ব্রিগেড এলাকায় তার মুখোমুখি হয় যুগান্তর। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন যুগান্তরের খুলনা ব্যুরো রিপোর্টার আহমেদ মুসা রঞ্জু

যুগান্তর: মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় সারা দেশে প্রথম হওয়ার অনুভূতি কেমন?

ইশমাম: অসাধারণ ভাল লাগা কাজ করছে। বলে বোঝানো যাবে না। প্রথমদিন কোন কিছু ফিল (অনুভব) করিনি। পরবর্তীতে বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়-স্বজনদের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা পাওয়ার পর ভিন্ন এক ধরনের অনুভূতি কাজ করছে, যা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।

যুগান্তর: পড়াশোনার ধরনটা কেমন ছিল?

ইশমাম: আমি বেশিক্ষণ পড়তাম না। প্রয়োজন অনুযায়ী পড়েছি। সময় হিসেব করে কখনও পড়িনি। যখন আমার মনে হতো সিলেবাসটি শেষ করতে হবে তখন সেটি শেষ না হওয়া পর্যন্ত পড়তাম। সেটা ৪ ঘন্টা হোক কিংবা ১০ ঘন্টায় হোক। আমার মনে হয় সবারই সেটা করা উচিত।

যুগান্তর: পড়াশোনার হাতেখড়ি কোথায়?

ইশমাম: আমার পড়াশোর হাতে খড়ি যশোরে। সেখানকার একটি স্কুলে প্লে-নার্সারি শেষ করেছি। এরপর কুষ্টিয়া তারপর খুলনার সেন্ট যোসেফস স্কুলে এসএসসি এবং মজিদ মেমোরিয়াল সিটি কলেজ থেকে এইচএসসি শেষ করেছি। খুলনা জিলা স্কুলে ভর্তি হওয়ার চেষ্টা করেছি। কিন্তু আব্বু সরকারি চাকরি না করায় অফ টাইমে ভর্তি নেয়নি।

যুগান্তর: আপনার এ সাফল্যের পেছনে কার অবদান বেশি বলে মনে করেন?

ইশমাম: আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই প্রথমে। এরপর বাবা মায়ের অবদান সবথেকে বেশি। এরপর সব শিক্ষকই আমার পথপ্রদর্শক হয়েছেন। সেই সব শিক্ষক যারা ছোটবলো থেকেই আমাকে শিখিয়েছেন, কোচিং সেন্টারের শিক্ষকদের প্রতিও আমি কৃতজ্ঞ। কাউকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই।

যুগান্তর: আপনি ভবিষ্যতে কী হতে চান? ভবিষ্যত পরিকল্পনা কী?

ইশমাম: নিউরোলজিস্ট হওয়ার ইচ্ছা আছে। নিউরো বায়োলজিক্যাল যে ডিজ-অর্ডারগুলো আছে যেমন অটিজম টাইপের বা অন্য ধরনের অসহায় শিশুদের নিয়ে কাজ করতে চাই।

যুগান্তর: এমন ইচ্ছা পোষনের পেছনে কারণ কী?

ইশমাম সাকীব: আমার ছোট ভাই স্পেশাল চাইল্ড (প্রতিবন্ধী) এজন্য আমি চাই এসব শিশুদের নিয়ে রিসার্চ হোক। বাংলাদেশের সোশ্যাল ইকোনমিক সেক্টরে অনেক অসহায় বিদেশে এসব শিশুর জন্য অনেক ফ্যাসিলিটি রয়েছে কিন্তু বাংলাদেশে এদেরকে বার্ডেন হিসেবে মনে করা হয়। আমি চাই এরাও স্বাভাবিক মানুষের মত স্বাভাবিক জীবনে আসুক, তারা যেন তাদের জীবন স্বাভাবিকভাবে পার করতে পারে। এসব অসহায় শিশুদের জন্য কিছু করতে চাই। আর আমার ডাক্তার হওয়ার ইচ্ছার পেছনে এটাই বেশি প্রাধান্য পেয়েছে সবসময়। একসময় ইচ্ছে হতো ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার; কিন্তু সেখান থেকে ফিরে এসেছি আমার ছোট ভাইয়ের মত অন্যদের সেবা করার মানসিকতা নিয়েই।

যুগান্তর: ভার্চুয়াল জগতে আপনার বিচরণ কেমন?

ইশমাম সাকীব অর্ণব: হ্যাঁ, ভার্চুয়াল জগতে ছিলাম কিন্তু পড়াশোনা বাদ দিয়ে নয়। আসক্ত হয়ে যাইনি। এ অর্থই হচ্ছে মানুষের সঙ্গে কানেক্ট থাকা। তবে এই থাকার অর্থ এমন নয় যে, নিজের পড়াশোনা নষ্ট করে হতে হবে।

যুগান্তর: পড়াশোনার ক্ষেত্রে কোন বিষয়টিকে সবচেয়ে কঠিন ও কোন বিষয়টি সবচেয়ে সহজ মনে হয়?

ইশমাম সাকীব অর্ণব: যখন স্কুলে ছিলাম তখন বাংলাদেশের বিশ্ব পরিচয় নামক বিষয়টি কঠিন মনে হতো। অন্যদিকে সায়েন্সের সব বিষয়গুলোই পছন্দ হতো। সহজ বলব না, কিন্তু কঠিন মনে হতো না। আর কলেজে ওঠার পর থেকে এমন কোন কিছুকেই কঠিন মনে হতো না। বায়োলজি বিষয়টির প্রতি আকর্ষণটি বেশি ছিল।

ইশমামের আরও কিছু প্রতিভা

২০১৪ সালে জাতীয় গণিত অলিম্পিয়াডে বিভাগীয় পর্যায়ে প্রথম স্থান লাভ করে জাতীয় পর্যায়ে অংশ নেন ইশমাম সাকীব অর্ণব। ২০১৫ সালে ভাষা প্রতিযোগিতাতেও বিভাগীয় পর্যায়ে প্রথম হয়ে জাতীয় পর্যায়ে অংশ নেন। এছাড়াও ডিবেটিং করেছেন নিয়মিত।

যা কিছু প্রিয়

ইশমাম সাকীব অর্ণবের প্রিয় শখের মধ্যে রয়েছে বই পড়া, গান করা ও গান শোনা। প্রিয় খাবার হিসেবে বিরিয়ানী তার ভীষণ পছন্দ। গাঢ় লাল রঙ তার খুব পছন্দের।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews