করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে সীমিত আকারে ব্যাংকিং কার্যক্রম চলছে। সরকারের ঘোষিত সাধারণ ছুটির দিনগুলোতে লেনদেন হবে সকাল ১০টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত। কিন্তু এই সময় এটিএম কার্ডে টাকা তোলার সীমা ও টাকা উঠানোর সংখ্যা বাড়িয়ে দিয়েছে ব্যাংকগুলো।

ব্যাংকগুলোর কর্মকর্তারা জানান, করোনা বিপর্যয়ে ব্যাংকগুলো কার্ডে লেনদেনের সীমা বাড়িয়ে দিয়েছে। ব্যাংকগুলো নিজ নিজ নিরাপত্তা বিবেচনা করেই টাকা উঠানোর পরিমাণ বাড়িয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় এটা সামনে বাড়তে বা কমতে পারে।

আর এতে বাংলাদেশ ব্যাংকেরও অনুমোদন রয়েছে বলে জানা গেছে।

বেসরকারি ইস্টার্ন ব্যাংক জানিয়েছে, এখন থেকে তাদের কার্ডধারী গ্রাহকেরা প্রতিদিন সর্বোচ্ছ ১ লাখ টাকা পর্যন্ত তুলতে পারবেন এবং প্রতিদিন ১০ বার টাকা উঠানো যাবে। বর্তমানে মহামারী করোনাভাইরাসের কারণে এই সুযোগ দেয়া হচ্ছে।

ব্যাংকটি বলছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যাংকের শাখায় না গিয়ে ভিসা কার্ডের মাধ্যমে ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

এসআইবিএল বলছে, করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে আমরা গ্রাহকদের ব্যাংকের শাখায় না যেতে উৎসাহ দিচ্ছি। আপনারা ইন্টারনেটের মাধ্যমে ব্যাংকিং সেবা নিন। এটিএম কার্ড ও মোবাইল অ্যাপ এসআইবিএল নাউ’র মাধ্যমে টাকা তুলুন। এসব মাধ্যম ব্যবহার করে টাকা অন্যান্য সেবার বিল পরিশোধ করতে পারবেন।

আইএফআইসি ব্যাংক বলছে, ব্যাংকে না গিয়ে ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের সেবা নিন। সব ধরনের কেনাকাটা কার্ডে করুন।

ব্যাংকটি আরো জানায়, যে কোনো ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে আইএফআইসি ব্যাংকের কার্ড দিয়ে বিনা খরচে টাকা তোলা যাবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, এখন দুর্যোগময় সময় চলছে। এই ক্রান্তিকালে ব্যাংকগুলো এই সুবিধা দিতে পারবে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

জানতে চাইলে ব্যাংকগুলোর এমডিদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ- এবিবির সাবেক সভাপতি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, এখন ক্রান্তিকাল যাচ্ছে। আমরা ব্যাংকে যেতে গ্রাহকদের নিরুৎসাহিত করছি। তাই ব্যাংকগুলো এই সুযোগ দিচ্ছে।

টাকা উত্তোলনের সীমা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ব্যাংকগুলো নিজেদের পলিসি অনুযায়ী এখন টাকা তোলার পরিমাণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। তারা তাদের নিরাপত্তা বিবেচনা করে সীমা বাড়াচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে টাকার পরিমাণের সীমা নির্ধারণ করে দেয়া হয়নি। প্রয়োজনে এই সীমা বাড়তে বা কমতেও পারে।

কার্ডের যেসব চার্জ রয়েছে সেগুলো মওকুফ করা হচ্ছে কি না জানতে চাইলে সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, এটাও ব্যাংকগুলো আলাদা আলাদা সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। কিছু কিছু ব্যাংক ছাড় দিচ্ছে। কেউ দেয়নি এখনো। তবে এতে কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

সরকার ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করলেও ব্যাংকে ছুটি ঘোষণা করা হয়নি। তবে এর কার্যক্রমের সময়সীমা কমিয়ে এনেছে।

অবশ্য ডেবিট কার্ডে টাকা তোলার ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো উৎসাহিত করলেও ক্রেডিট কার্ড দিয়ে এই দুর্যোগের সময় জরুরি প্রয়োজনে এটিএম থেকে টাকা উত্তোলনের চার্জ কমানোর ক্ষেত্রে কিছু বলেনি ব্যাংকগুলো। ইন্টারনেট ব্যাংকিং ও কেনাকাটায় সুবিধা থাকলেও ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে এটিএম বুথ থেকে টাকা উত্তোলনের খরচ ও অন্যান্য চার্জ বেশি হওয়ায় সাধারণত চেক নিয়ে ব্যাংকে যেতে হয় গ্রাহকদের।

গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ব্যাংকে লেনদেন চলবে।

এছাড়াও এটিএম ও কার্ডের মাধ্যমে লেনদেন চালু রাখার সুবিধার্থে এটিএম বুথগুলোতে পর্যাপ্ত নোট সরবরাহসহ সার্বক্ষণিক চালু রাখার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews