ভারত স্বাধীনতার পর কয়েক দশক ধরে সম্পর্ক মূলত লেনদেনভিত্তিক ছিল। একদিকে ছিল তেল, অন্যদিকে ছিল শ্রম আর ধন উভয় দিকে। সম্প্রতি ভারত ও উপসাগরীয় দেশগুলো তাদের ঐতিহাসিক অংশীদারত্বের কৌশলগত মূল্য পুনরায় খুঁজে পেয়েছে এবং একুশ শতকের জন্য পুনর্বিন্যাস শুরু করেছে।
২০১০-এর দশকের মাঝামাঝি এই দুই পক্ষের কৌশলগত অগ্রাধিকার মিলতে শুরু করে। ২০১৫ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রথমবারের মতো সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করেন। এটি ছিল ৩৪ বছর পর কোনো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর। এই সময়ে প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান ও সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান তাঁদের অর্থনীতি তেলের বাইরে বৈচিত্র্যপূর্ণ করার পরিকল্পনা চালু করেন।
ভারতের সঙ্গে উপসাগরীয় এলাকার এই মিলন ঘটেছে অভ্যন্তরীণ পরিবর্তনের কারণে। উপসাগরীয় দেশগুলো তেলের ওপর নির্ভরতার ঝুঁকি বুঝতে শুরু করেছে এবং পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি, প্রযুক্তি ও পর্যটনে বিনিয়োগ করেছে। একই সময়ে ভারত দ্রুত শিল্পায়ন ও ডিজিটালাইজেশনে এগোচ্ছে এবং এমন উপসাগরীয় দেশগুলোতে উৎসাহী অংশীদার খুঁজেছে, যাদের পুঁজিও আছে এবং পরিকল্পনাও আছে। ভারত চায় বিনিয়োগ ও দক্ষতা। আর উপসাগরীয় দেশগুলো চায় বড় প্রবৃদ্ধি ও নতুন নতুন সুযোগ।
এই সম্পর্কের শুরুতেই গভীর অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সহযোগিতা গড়ে ওঠে। এর মধ্যে রয়েছে আই২ইউ২ অংশীদারি। এর মধ্যে আছে ভারত, ইসরায়েল, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও যুক্তরাষ্ট্র।