২০২৬ ব্যালন ডি’অর

সম্ভাবনায় রদ্রি, এমবাপে, মেসি, কেইন ও ইয়ামাল

বিশ্বকাপ শেষ, শিরোপা জয় করেছে স্পেন। আসরের দ্বিতীয় সেরা দল লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। এই মুহূর্তে বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের খেলোয়াড়দের হাতাহাতির ঘটনা নিয়ে ফুটবল প্রিয়রা সরব হলেও অনেকের নজর আবার ব্যালন ডি’অরের দিকে। বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাকর ব্যক্তিগত এই পুরস্কারের তালিকায় আছেন রদ্রি, হ্যারি কেইন, লামিনে ইয়ামাল, কিলিয়ান এমবাপে ও লিওনেল মেসির মতো তারকারা।

বিশ্বকাপে রদ্রি: গোল্ডেন বল জিতেছেন স্পেন অধিনায়ক রদ্রি। রদ্রি ৭৫৬টি পাস সম্পন্ন করেছেন, টুর্নামেন্টে সবার চেয়ে বেশি। টাচ, প্রতিপক্ষের রক্ষণভেদী পাস এবং প্রতিপক্ষের এক-তৃতীয়াংশে পাস দেওয়ার ক্ষেত্রেও ছিলেন শীর্ষে। শুধু ফাইনালেই তিনি ১০১টি পাস সম্পন্ন করেন। আর্জেন্টিনার ওপর এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন যে তারা লক্ষ্যে একটি শটও নিতে পারেনি।

হ্যারি কেইন: ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে ৬৪ ম্যাচে ৭৩ গোল- লিওনেল মেসির ২০১১-১২ মৌসুমের ৮২ গোলের পর ইতিহাসের কোনো খেলোয়াড়ের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলসংখ্যা। সবচেয়ে বিস্ময়কর হলো, গত ১২টি মৌসুমের প্রতিটিতে অন্তত ২৪ গোল করা, প্রিমিয়ার লিগে টানা দুটি গোল্ডেন বুট, বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুট এবং দুটি ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শু জেতা একজন খেলোয়াড় ব্যালন ডি’অর ভোটে কখনোই ১০ম স্থানের ওপরে উঠতে পারেননি। বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড তাদের ট্রফিখরা কাটাতে পারেনি। তবে অধিনায়ক কেইন ছয় গোল করেছেন এবং বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে গ্যারি লিনেকারকে ছাড়িয়ে গেছেন। ফলে ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে তিনি এখনও শক্ত অবস্থানে রয়েছেন।

লামিনে ইয়ামাল: স্পেনের এই ফরোয়ার্ড ২০ বছর বয়সে পা দেওয়ার আগেই ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল ও বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলা প্রথম খেলোয়াড় হয়েছেন এবং দুটিই জিতেছেন। বিশ্বকাপে একটি গোল করেছেন তিনি। পুরো টুর্নামেন্টে মেসির চেয়ে বেশি সফল ড্রিবল করেন এবং ফাইনালে শারীরিক দ্বৈরথে তাকে জড়িয়ে ফেলার জন্য মরিয়া আর্জেন্টিনা রক্ষণ ভাঙতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। লা লিগায় বার্সেলোনার হয়ে ৪৫ ম্যাচে তার ২৪ গোল ও ১৮ অ্যাসিস্ট। দলটি জিতেছে লা লিগা ও সুপারকোপা। সব মিলিয়ে গত বছরের ব্যালন ডি’অরে রানার্সআপ হওয়া ইয়ামাল এবার এক ধাপ এগিয়ে শিরোপা জয়ের শক্ত দাবিদার।

কিলিয়ান এমবাপে: ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে দুই গোলের সুবাদে তিনি প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে দু’বার বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুট জেতেন। বিশ্বকাপে তার মোট গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ২২, মেসির চেয়ে একটি বেশি। ক্লাব পর্যায়েও তার মৌসুম ছিল গোলসমৃদ্ধ, কিন্তু হতাশাজনক। ৪৪ ম্যাচে ৪২ গোল করেছেন, লা লিগা ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, দুই প্রতিযোগিতাতেই মৌসুমের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন।

লিওনেল মেসি: বিশ্বমঞ্চ থেকে বিদায় নেওয়ার সময় আর্জেন্টিনার অধিনায়ক যে রূপকথার সমাপ্তি কল্পনা করেছিলেন, ২৩তম বিশ্ব আসরে মাত্র একটি হারে সেটি হয়নি। বিশ্বকাপের ফাইনালে হেরে গিয়েও কি ব্যালন ডি’অর জিততে পারেন মেসি? গত ১৯ বছরে মাত্র চারবার এমন হয়েছে, যখন একই বছরে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, বিশ্বকাপ, ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ বা কোপা আমেরিকা না জিতেও কোনো খেলোয়াড় ব্যালন ডি’অর পেয়েছেন। এর মধ্যে তিনবারই পুরস্কারটি জিতেছেন মেসি। নবম ব্যালন ডি’অর জয় হয়তো কিছুটা হলেও কঠিন। কিন্তু ৩৯ বছর বয়সে, এমএলএসে খেলে এবং বিশ্বকাপের ফাইনালে হেরেও তিনি যে এখনও ব্যালন ডি’অরে অন্যতম প্রার্থীদের একজন।

পূর্বকোণ/কিরণ/পারভেজ



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews