যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা শাসনের জন্য প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি পরিষদে যোগ দিতে ইচ্ছুক দেশগুলোর কাছে ১ বিলিয়ন ডলার অর্থ জোগানোর শর্ত দিয়েছেন। এই অর্থের নিয়ন্ত্রণ থাকবে ট্রাম্পের হাতেই। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খসড়া চার্টারের নিয়ম অনুযায়ী ট্রাম্প প্রথম চেয়ারম্যান হবেন এবং নতুন সদস্য নেয়ায় তার ভেটো ক্ষমতা থাকবে। সাধারণভাবে কোনও দেশ তিন বছরের বেশি সময় সদস্য থাকতে পারবে না, তবে প্রথম বছরে ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি অনুদান দেয়া হলে মেয়াদ বাড়ানো সম্ভব।
ট্রাম্প বিশ্বনেতা ও অন্যান্য প্রভাবশালী ব্যক্তিদের তার প্রস্তাবিত শান্তি পরিষদে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানাতে শুরু করেছেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজা ছাড়িয়ে বৈশ্বিক সংঘাত মোকাবিলার জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি কাঠামো গড়ে তোলাই এই উদ্যোগের বৃহত্তর লক্ষ্য। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল–জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে গাজায় ইসরাইলের চালানো গণহত্যামূলক যুদ্ধ বন্ধে যুদ্ধবিরতি চুক্তির দ্বিতীয় ধাপের অংশ হিসেবে ট্রাম্প প্রথম এই বোর্ডের কথা প্রকাশ করেন। সে সময় তিনি বলেছিলেন, এই সংস্থাটি গাজায় ‘শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলা, আঞ্চলিক সম্পর্ক উন্নয়ন, পুনর্গঠন, বিনিয়োগ আকর্ষণ, বৃহৎ তহবিল সংগ্রহ এবং মূলধন ব্যবস্থাপনা’ তদারকি করবে।
তবে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই ও প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনাকে পাঠানো ট্রাম্পের চিঠিÑযা শনিবার ওই দুই নেতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেনÑইঙ্গিত দেয় যে, বোর্ডটির লক্ষ্য আরও বিস্তৃত। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চিঠির সঙ্গে যুক্ত একটি ‘চার্টারে’ বড় পরিসরের উদ্দেশ্যের কথা বলা হয়েছে। মিলেইকে লেখা চিঠিতে ট্রাম্প বলেন, এই বোর্ড ‘মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি সুসংহত করার’ চেষ্টা করবে। একই সঙ্গে তিনি যোগ করেন, এটি ‘বৈশ্বিক সংঘাত সমাধানে একটি সাহসী নতুন পথ’ অনুসরণ করবে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, চিঠির সঙ্গে থাকা চার্টারে বলা হয়েছে, ‘বোর্ড অব পিস একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা, যার লক্ষ্য সংঘাতপীড়িত বা সংঘাতের ঝুঁকিতে থাকা অঞ্চলে স্থিতিশীলতা আনা, নির্ভরযোগ্য ও আইনি শাসনব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা এবং টেকসই শান্তি নিশ্চিত করা।’
চার্টারে আরও বলা হয়েছে, ‘টেকসই শান্তির জন্য প্রয়োজন বাস্তববাদী বিচারবোধ, সাধারণ বুদ্ধিনির্ভর সমাধান এবং এমন পন্থা ও প্রতিষ্ঠান থেকে সরে আসার সাহস, যা বহুবার ব্যর্থ হয়েছে।’ ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের মতে, চার্টারে সরাসরি গাজার কোনো উল্লেখ নেই। রয়টার্সকে দেওয়া তথ্যে দুটি কূটনৈতিক সূত্রও জানিয়েছে, আমন্ত্রণপত্রের সঙ্গে একটি চার্টার ছিল, যেখানে সংস্থাটির বিস্তৃত দায়িত্বের কথা বলা হয়েছে। চিঠির বিষয়ে অবগত এক কূটনীতিক রয়টার্সকে বলেন, ‘এটি এক ধরনের ‘ট্রাম্পের জাতিসংঘ’, যা জাতিসংঘ সনদের মৌলিক নীতিগুলো উপেক্ষা করে।’
তবে আপাতত ট্রাম্প প্রশাসন প্রকাশ্যে জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসের প্রাথমিক মনোযোগ থাকবে গাজার ওপর। শুক্রবার ট্রাম্প ঘোষণা দেন, যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার বোর্ডটির প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী সদস্যদের একজন হবেন। তার সঙ্গে থাকবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। এ ছাড়া প্রাথমিকভাবে আরও যাদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে, তারা হলেনÑঅ্যাপোলো গ্লোবাল ম্যানেজমেন্টের সিইও মার্ক রোয়ান, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা এবং মার্কিন উপ-জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা রবার্ট গ্যাব্রিয়েল। এদিকে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু শনিবার গাজা এক্সিকিউটিভ বোর্ডের বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, বোর্ডটির গঠন ‘ইসরাইলের সঙ্গে সমন্বয় না করেই করা হয়েছে এবং এটি তাদের নীতির পরিপন্থী।’ নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বোর্ডের গঠনের কোন দিকটির বিরোধিতা করা হয়েছে, তা নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি। সূত্র : বিবিসি, এসসিএমপি।