ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বর্তমানে চলমান ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’-এর ষষ্ঠ দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে গড়ে ওঠা সামরিক সহযোগিতাকে ‘ঐতিহাসিক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। 

শুক্রবার (৬ মার্চ) দক্ষিণ ইসরায়েলের একটি বিমান ঘাঁটি পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন। 

ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক ফেসবুক পেজে শেয়ার করা এক বার্তায় নেতানিয়াহু বলেন যে, তিনি সেখানে অবস্থানরত ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অকুতোভয় পাইলট এবং নিবেদিতপ্রাণ গ্রাউন্ড ক্রুদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তিনি দুই দেশের বিমান বাহিনীর মধ্যকার এই নজিরবিহীন সমন্বয় ও যৌথ তৎপরতাকে বর্তমান যুদ্ধের সাফল্যের মূল ভিত্তি হিসেবে বর্ণনা করেন।

বিবৃতিতে নেতানিয়াহু জানিয়েছেন যে, ইসরায়েলি ও মার্কিন বাহিনী সম্মিলিতভাবে ইরানের ‘সন্ত্রাসী শাসকগোষ্ঠীর’ বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তু এবং লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ওপর হামলা অব্যাহত রেখেছে। তিনি দাবি করেন যে, বিগত কয়েক দিনের অভিযানে তাঁরা ইতিমধ্যে অনেক বড় লক্ষ্য অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন, তবে চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের জন্য এখনো অনেক কাজ বাকি রয়েছে। 

নেতানিয়াহুর মতে, এই যৌথ অভিযান মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং শত্রুপক্ষের সামরিক সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দিতে কার্যকর ভূমিকা পালন করছে। বিমান ঘাঁটিতে দেওয়া তাঁর এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, ইরান ও লেবানন সীমান্তে সামরিক তৎপরতা অদূর ভবিষ্যতে আরও জোরালো হবে।

প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু তাঁর দীর্ঘদিনের মিত্র মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্পের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন যে, ইসরায়েল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ও সহযোগিতা বিদ্যমান, তার জন্য তিনি ব্যক্তিগতভাবে তাঁর বন্ধু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানাতে চান।





নেতানিয়াহু অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেন যে, ট্রাম্পের নির্দেশনায় মার্কিন প্রশাসন ইসরায়েলের পাশে যেভাবে দাঁড়িয়েছে তা ইতিহাসে বিরল। তিনি বিশ্বাস করেন যে, স্রষ্টার সহায়তায় দুই দেশ একসঙ্গে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে এবং তাঁদের নির্ধারিত লক্ষ্যগুলো অর্জন করতে সক্ষম হবে।

নেতানিয়াহুর এই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এমন এক সময়ে এল যখন মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলা তীব্রতর হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের প্রত্যক্ষ সমর্থনে পরিচালিত এই ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ এখন একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধের রূপ নিয়েছে। 

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নেতানিয়াহু ও ট্রাম্পের এই ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক রসায়ন যুদ্ধের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর এই প্রকাশ্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন মূলত আন্তর্জাতিক মহলে এই বার্তা দিতে চায় যে, বর্তমান সামরিক অভিযানে ওয়াশিংটন ও তেল আবিব পুরোপুরি একতাবদ্ধ রয়েছে এবং কোনো বৈশ্বিক চাপেই এই অগ্রযাত্রা থামবে না।

সূত্র: ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক ফেসবুক পেজ



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews