একদিকে করোনা, অন্যদিকে বাজেটে কর প্রস্তাবের চাপে পড়েছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প। ন্যূনতম আয়করের নতুন শর্ত আগাম কর বৃদ্ধি বহাল, ভ্যাট বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যয় বৃদ্ধিতে বড় ধরনের ঝুঁকি হয়েছে দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য। এর ফলে পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।

তাঁরা বলেন, কাপড়ের দোকান কিংবা নিত্যপণ্যের আড়তে বছরে তিন কোটি টাকার বেশি বিক্রি হলে ০.৫ শতাংশ হারে আয়কর দিতে হবে। বাজেটে এই করহারটি সব ধরনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ন্যূনতম। সেই হিসাবে কোনো ব্যবসায়ী যদি দিনে এক লাখ টাকা হিসাবে মাসে ২৬ দিন লেনদেন করেন তাহলে বছর শেষে তাঁকে কমপক্ষে দেড় লাখ টাকা আয়কর দিতে হবে।

ব্যবসায়ীরা বলেন, এটা মোটেও সম্ভব নয়। আর এটা আয়করের সংজ্ঞার মধ্যেও পড়ে না। যিনি আয় করবেন, আয়ের মধ্য থেকে তিনি আয়কর দেবেন। কেননা তিন কোটি টাকা বার্ষিক লেনদেনে ব্যবসায়ীদের লোকসানও হতে পারে।

এ ছাড়া ব্যবসায়ীদের অস্বস্তি আছে উৎস করেও। প্রস্তাবিত বাজেটে স্থানীয় ঋণপত্রের মাধ্যমে চাল, আলু, আটা কিনলে ২ শতাংশ হারে উৎস কর কাটার কথা বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি ও ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সহসভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ব্যবসায় টার্নওভার ট্যাক্সের ওপর কোনো কর ধার্য হতে পারে না। এটা অযৌক্তিক। এতে পণ্যের দাম বাড়বে, ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

হেলাল উদ্দিন আরো বলেন, কভিড-১৯ এই মহামারি কত দিন থাকবে কেউ জানে না। অনেক ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী রাজধানী ছেড়ে গ্রামে চলে যাচ্ছেন। এমন অনিশ্চিত সময়ে কৌশল করা মোটেও ঠিক হয়নি। ভ্যাটের অগ্রিম কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪ শতাংশ করা হলেও এই নীতি কভিডের মন্দার এই সময়ে নগদ অর্থের জোগান কমিয়ে দেবে বলে আশঙ্কা তাঁর।

পুরান ঢাকার ব্যবসায়ী ঐক্য ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আবু মোতালেব কালের কণ্ঠকে বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে ভ্যাট বিরোধ নিষ্পত্তির জমা আবেদনের মোট অর্থের ২০ শতাংশ করার বিধান করা হয়েছে, যা আগে ছিল ১০ শতাংশ। এটা একটা বিচারের নামে অবিচার। তিনি বলেন, ভ্যাট কর্মকর্তারা ব্যবসায়ীদের হয়রানি করার জন্য এটা করেছেন।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, অহেতুক মামলার চাপ কমাতে প্রস্তাবিত বাজেটে ভ্যাট বিরোধ নিষ্পত্তির জমা আবেদনের মোট অর্থের ২০ শতাংশ করার বিধান করা হয়েছে। এটা রাজস্ব আদায়ের জন্য মন্দ নয়। তবে স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ভালো হলেও করোনার মহামারির এই সময়ে এটা প্রত্যাহার করা উচিত বলে তিনি মনে করেন।

ঘোষণা ছাড়া ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অভিযানের বিধান সম্পর্কে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি সামস মাহমুদ কালের কণ্ঠকে বলেন, করের আওতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে এটা করা হলেও এর ফলে ব্যবসায়ীদের হয়রানির আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তিনি বলেন, ‘এ জন্য আমাদের পরামর্শ, এনবিআরের ভ্যাট অনলাইন কার্যক্রম জোরদার করা হোক। এ ছাড়া অভিযান করতে হলে অঞ্চলভিত্তিক ভ্যাটের ঊর্ধ্বতন কমিশনারকে অবহিত করে যেন অভিযানে যান নিচের সারির কর্মকর্তারা।’



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews