সঞ্চালন এবং বিতরণ মিলিয়ে ঘূর্ণিঝড় আম্পানে বিদ্যুতের ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৭০ কোটি টাকা। বিদ্যুৎ বিভাগের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এরইমধ্যে ক্ষতির হিসাব দিতে শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আলাপ করে এ তথ্য জানা গেছে।

শনিবারের (২৩ মে) মধ্যে ক্ষয়ক্ষতির হিসাব বিদ্যুৎ বিভাগে জমা দিতে বলা হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, মোট ক্ষতির হিসাব আগামীকাল শনিবার (২৩ মে) অফিসিয়ালি জানা যাবে। তিনি বলেন, বিতরণ কোম্পানিকে ক্ষতির হিসাব দেওয়ার জন্য একটি গাইড লাইন দেওয়া হয়েছিল। সে অনুযায়ী, হিসাব তৈরি করে কেউ কেউ পাঠিয়েছিল। তবে তাতে কিছু ঘাটতির থাকায় আবারও হিসাব তৈরি করে পাঠাতে বলা হয়েছে।

জানা গেছে, আম্পানের কারণে সব চেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের। দেশের বিভিন্ন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি বিদ্যুৎ বিভাগকে জানিয়েছে— আরইবির দুই হাজার ৭০০ বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে গেছে, ট্রান্সফরমার পুড়ে গেছে ৭৬০টি, বিদ্যুতের ১৯ হাজার মিটার পুড়ে গেছে। এছাড়া, ৩৩ হাজার ৬০০ জায়গায় সরবরাহ লাইনের তার ছিঁড়ে গেছে।

টাকার অঙ্কে ক্ষতির পরিমাণ জানতে চাইলে আরইবির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আমজাদ হোসেন বলেন, ‘২৮ থেকে ৩০ কোটি টাকার মতো ক্ষতি হয়েছে।’

আরইবির পাশাপাশি ক্ষতি হয়েছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো), নর্দান ইলেক্ট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) এবং পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি)-এর।

ওজোপাডিকো জানায়, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিতরণকারী এই কোম্পানির ৭৮১টি পোল ভেঙে গেছে। আর এক হাজার ৭১৬টি পোল হেলে পড়েছে। মোট ৪৯০ কিলোমিটার লাইনের ক্যাবল ছিঁড়ে পড়েছে। এছাড়া, ১১৪টি ট্রান্সফরমার নষ্ট হয়ে গেছে।

কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শফিক উদ্দিন জানান,  তাদের  ক্ষতির পরিমাণ ৯ থেকে ১০ কোটি টাকার মধ্যে রয়েছে।

উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে বিদ্যুৎ বিতরণ করা নেসকোর আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ১০ কোটি টাকার মতো হতে পারে বলে নেসকো সূত্র জানিয়েছে।

তবে মোট ক্ষতির হিসাব এখনই বলতে চাননি নেসকো’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাকিউল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘হিসাব এখনও  চূড়ান্ত হয়নি।’ রাতের মধ্যে হিসাব চূড়ান্ত করার জন্য সব জায়গার ক্ষতির হিসাব নিচ্ছেন তিনি।

এদিকে কুষ্টিয়াতে পিজিসিবির একটি সাবস্টেশন পুড়ে গেছে। এই সাবস্টেশনের জন্য নতুন ট্রান্সফরমারের দাম ২০ কোটি টাকা বলে পিজিসিবি জানিয়েছে।

বুধবার (২০ মে) বিকালে ঘূর্ণিঝড় আম্পানের আঘাতে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উত্তরাঞ্চলের বিদ্যুতের অবকাঠামোও। আরইবি বলছে, এখনও তাদের ২৭ লাখ গ্রাহক বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। আজ  ও  কালকের (শুক্র ও শনিবার) মধ্যে প্রায় সব বিতরণ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে যশোর এবং সাতক্ষীরার কিছু এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে একটু বেশি সময় লাগবে।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews