ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়েছে ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার ইতোমধ্যে তাদের ৬০ দিনের কর্মকাণ্ডের একটা সংক্ষিপ্ত ফিরিস্তি দেশবাসীর সামনে তুলে ধরেছে। এখন পর্যন্ত সরকার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নির্বাচনি ইশতেহার ধরেই এগোচ্ছে। নির্বাচনে ভূমিধস বিজয়ের মধ্য দিয়ে সংসদে ২১২ আসন নিয়ে বিএনপি পাঁচ বছরের জন্য দেশ পরিচালনার ম্যান্ডেট পেয়েছে জনগণের কাছ থেকে। সে কারণে পাঁচ বছর আর কোনো চিন্তা নেই, এমন আচ্ছন্নতার মধ্যে আছেন দলটির নেতা-কর্মীরা। সরকারের বিভিন্ন পদপদবিতে যাঁরা স্থান পেয়েছেন, তাঁরাও মনে করছেন তাঁদের ক্ষমতার ট্রেড লাইসেন্সের মেয়াদ পাঁচ বছর। সেজন্য তাঁদের মেজাজ-মর্জিও লক্ষ করা যাচ্ছে পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার মতোই। দলের নেতা-কর্মীরা মনে করছেন, নির্বাচনের এখনো চার বছর ১০ মাস অর্থাৎ ৫৮ মাস বাকি। সুতরাং নাকে তেল দিয়ে ঘুমানোরই এখন শ্রেষ্ঠ সময়।

অন্যদিকে দেশের অন্যতম প্রাচীন রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী এখন বিরোধী বেঞ্চে। জাতীয় সংসদে দলটি এককভাবে ৬৮ এবং জোটবদ্ধভাবে ৭৭ আসন পেয়েছে। নির্বাচনের আগে দলটির নেতা-কর্মীদের দেহভঙ্গি, কথাবার্তায় মনে হয়েছে তাঁরা নিশ্চিত ক্ষমতায়। শুধু নির্বাচনের আনুষ্ঠানিকতা বাকি। কিন্তু তাঁদের সেই আকাক্সক্ষা পূরণ হয়নি। তাই বলে তাঁরা হতাশ নন। তাঁদের প্রাপ্তি অনেক। তাঁরা এখন বিরোধী দলের আসনে বসে আছেন। তাঁরা তাঁদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁদের ক্ষমতায় যাওয়ার লক্ষ্য এখনো স্থির। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে বিরোধী দলের আসনে বসার পর তাঁদের মধ্যে নতুন দেহভঙ্গি লক্ষ করা যাচ্ছে। বক্তব্য, বিবৃতি, ভাষণেও এটা স্পষ্ট। সরকারের মেয়াদ পাঁচ বছর হলেও বিরোধী দলের ভাবসাবে মনে হচ্ছে, অত সময় অপেক্ষার র্ধৈয তাদের নেই। শুধু শরীর বা মুখের ভাষাই পরিবর্তন হচ্ছে না, নানানভাবে ঘুঁটি চালাচালিও হচ্ছে বলে কানাঘুষা শোনা যাচ্ছে। বিভিন্ন দাতা সংস্থা বা গুলশানের কূটনৈতিকপাড়ায়ও কেউ কেউ হাঁটাহাঁটি করছেন। তাঁদের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন ইউনূস জমানার ১৮ মাসে সরকারের সুবিধাভোগীরাও। সুতরাং সাবধান! যাদের কাছে জনগণের পাঁচ বছরের ম্যান্ডেট আছে, তাদের শতভাগ জনমুখী হতে হবে। আর দুই মাসেই যাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে তাদেরও মনে রাখতে হবে, পরবর্তী নির্বাচন চার বছর ১০ মাস পর। এখনই অতিরিক্ত লম্ফঝম্প করলে বিপজ্জনক পদস্খলনে গভীর পতন ঘটতে পারে। যেখান থেকে উঠে দাঁড়াতে আরও বেশি সময় লাগবে।

আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পর্যন্ত সবকিছুই নির্দিষ্ট মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী হয়েছে। কোনো একটি প্ল্যানের ওপর ভিত্তি করে ৫৫ বছর অতিক্রান্ত হয়নি। একেক সময় একেক প্ল্যান। প্রতিটির মাস্টারমাইন্ডও আলাদা। বিষয়টা এমন যেন-‘স্বার্থ যার যার, বাংলাদেশ সবার’। আগামীর জন্য হয়তো এখনই কোনো না কোনো প্ল্যান তৈরি হচ্ছে। শুরু থেকে আলোচনা করলে দেখা যায়, পাকিস্তান তার নিজের স্বার্থে পূর্ব পাকিস্তানকে ব্যবহার করেছে। এ ভূখণ্ডের জনগণকে খুব অন্যায্যভাবে, নিজেদের ইচ্ছামতো বঞ্চিত করেছে। তারা সাড়ে ৭ কোটি মানুষের স্বার্থ দেখেনি। এদিকে সাড়ে ৭ কোটি মানুষের প্রায় সবার লক্ষ্য ছিল এ ভূখণ্ডকে পাকিস্তানমুক্ত করা, স্বাধীন করা। সামান্য কিছু মানুষ ব্যবহৃত হয়েছে অখণ্ড পাকিস্তানের স্বার্থরক্ষার জন্য। তারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছে। সে কারণে তারা এখনো দেশবাসীর কাছে স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকার, আলবদর, আলশামস পরিচয়েই পরিচিত। অন্যদিকে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারত যতটা না বাংলাদেশের স্বার্থ দেখেছে, তার চেয়ে বেশি দেখেছে নিজেদের স্বার্থ। প্রতিবেশী ভারতের স্বার্থ ছিল মুক্তিযুদ্ধে সহায়তা করে পাকিস্তান ভাঙা। তাদের রাজনীতি ছিল ভৌগোলিক আধিপত্য বিস্তাবের কৌশল। তার পর থেকে একটার পর একটা কৌশল-অপকৌশল এ দেশের মানুষকে মোকাবিলা করতে হয়েছে। অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বর্তমান অনেক বেশি জটিল। ভবিষ্যৎটা আরও বেশি জটিল হওয়ার আশঙ্কা। রাজনীতি কখনোই শতভাগ ত্যাগের ছিল না। হবেও না। ত্যাগের মধ্যেও ভোগের অংশ ছিল, আছে এবং থাকবে। সেজন্যই ক্ষমতার চেয়ারের কারণে বাবা ছেলেকে, ছেলে বাবাকে, ভাই ভাইকে, স্বামী স্ত্রীকে, স্ত্রী স্বামীকে, বন্ধু বন্ধুকে হত্যা করতেও কার্পণ্য করেনি। ক্ষমতার জন্য খুনাখুনি শুধু তৃতীয় বিশ্বের দেশে নয়, উন্নত মোড়লদের দেশেও হয়েছে। ভূরাজনীতির নানান কৌশলগত কারণে বাংলাদেশ এখন অনেকের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ। ভূরাজনীতিতে এখন সহজ কোনো সমীকরণ নেই। তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে শুধু গোলাবারুদ দিয়েই যুদ্ধ বা আধিপত্য বিস্তারের লড়াই হয় না, প্রযুক্তির লড়াইয়ের প্রতিযোগিতাও চলছে পৃথিবীতে। উপরন্তু বর্তমান যুদ্ধাক্রান্ত। যুদ্ধের হামলা-পাল্টা হামলা শুধু ইরান, ইসরায়েল বা মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; আরও অনেক দেশের মতো আমাদের দেশের প্রতিটি মানুষকেও স্পর্শ করেছে। জ্বালানির জন্য হাহাকার, পাম্পগুলোতে এখনো দীর্ঘ লাইন, পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধিসহ সব নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে গেছে। দিনদিন বেকারত্ব বাড়ছে। মানুষের নাভিশ্বাস উঠে গেছে। এ অবস্থা কাটিয়ে সহনশীল পরিস্থিতি তৈরির জন্য সরকার সামাজিক নিরাপত্তায় ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ক্রীড়া কার্ড, ফুয়েল পাসসহ নানান কর্মসূচি চালু করেছে। এ ছাড়া ফ্রিল্যান্সার কার্ড, এলপিজি কার্ড, প্রবাসী কার্ড, ই-হেলথ কার্ড চালু করা হবে। দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে পরিবেশ রক্ষায় সারা দেশে শুরু হয়েছে খাল খনন কর্মসূচি। এরই মধ্যে একদিকে বৈশ্বিক সমস্যা মোকাবিলার চেষ্টা, অন্যদিকে দেশের ভিতরের সমস্যা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। জ্বালানিসংকট সমাধানে বিরোধী দলের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় সংসদে সর্বদলীয় কমিটিও গঠন করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন জরুরি ইস্যুতে জাতীয় সংসদের বিতর্ক অবশ্যই প্রশংসিত হচ্ছে। কারণ এমন পরিবেশ অনেক বছর দেখেনি বাংলাদেশ। সংসদের ভিতরে বিরোধী দলের ভূমিকা গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথে অবশ্যই সহায়ক। সরকারি দলও সহনশীলভাবে এখনো বিরোধী দলকে আস্থায় নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করছে। তবে কোনো ইস্যুতে তীব্র-তীক্ষè বিতর্ক হবে, ওয়াকআউট হবে এটাই সংসদীয় গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির রীতি ও সৌন্দর্য। এ সৌন্দর্যই দেখতে চায় দেশবাসী।

তবে সংসদের ভিতরের পরিবেশ আর বাইরের রাজনৈতিক পরিবেশের গরমিল সবার চোখে পড়ছে। ১১-দলীয় বিরোধী জোটের রাজনীতি এখন জুলাই সনদ বাস্তবায়নকেন্দ্রিক। তারা দুই সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি পালন করছে। সরকারকে নানাভাবে, নানান ভাষায় হুমকি দিচ্ছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে সরকার জনগণের সঙ্গে বেইমানি করছে বলে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে। প্রকারান্তরে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির নামে সরকারবিরোধী চাপে পরিণত করা হচ্ছে।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জামায়াত ১৭৯ এবং নতুন দল এনসিপি ৩০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। এর ফলে সারা দেশে এ দুই দলের সাংগঠনিক ভিত্তি অতীতের চেয়ে আরও মজবুত হয়েছে। বিশেষ করে অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় জামায়াতে ইসলামী এখন অনেক বেশি শক্তিশালী। সেই সঙ্গে তাদের জনসম্পৃক্ততাও ব্যাপক পরিসরে বেড়েছে। নির্বাচনের পর নিজ দলের অর্জন সম্পর্কে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বিবৃতিতে বলেছিলেন, ‘জামায়াত অতীতের অনেক রেকর্ড ভেঙে আজ দেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। ২০০৮ সালে মাত্র দুটি আসন থেকে আজ কোটি কোটি মানুষের সমর্থন আমাদের প্রতি জন আস্থার বহিঃপ্রকাশ।’ নির্বাচনি ফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, জামায়াত বরাবরের মতোই দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও বিশেষ করে উত্তরাঞ্চল থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল পর্যন্ত ভারত সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে নিজেদের অবস্থান অধিক সংহত করতে পেরেছে। খুলনা, যশোর, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, জয়পুরহাট, রাজশাহী, রংপুরের মতো জায়গায় ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে দলটি। সব মিলিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খুলনা বিভাগের ১০ জেলার ৩৬ সংসদীয় আসনের ২৫টিতেই তারা জয় পেয়েছে। আর উত্তরাঞ্চলে রংপুর বিভাগের ৩৩ আসনের ১৭টিতে জয় পেয়েছে। ঢাকার ২০ আসনের ৬টিতে বিজয়ী হয়েছে। আর জামায়াতের অন্যতম সহযোগী এনসিপি নতুন দল হলেও রাজধানীর একটি আসন দখলে নিয়েছে। সুতরাং রাজনীতির হিসাব এখন আর অতীতের মতো কারও একচ্ছত্র অধিকারে নেই।

এদিকে সংসদের বাইরে বিরোধী দল যেভাবে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছে, এ নিয়ে ২৭ এপ্রিল ২০২৬ যশোরের জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজ দলের নেতা-কর্মী ও দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা নিজেদের সতর্ক রাখব, যাতে আর কেউ দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে না পারে। বিএনপিসহ সব রাজনৈতিক দল মিলে আমরা সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় জুলাই সনদ সই করেছি। বাংলাদেশের মানুষ ভোটের মাধ্যমে রায় দিয়েছে যে সেই জুলাই সনদ পাস করতে হবে। সেজন্যই আমরা বলেছি, যে জুলাই সনদ আমরা দক্ষিণ প্লাজায় সই করেছি, সেই জুলাই সনদের প্রতিটি শর্ত, শব্দ, প্রতিটি লাইন ইনশাল্লাহ বিএনপি সংসদে পাস করবে। যারা দেশ স্বাধীনের সময়, দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মানুষকে বিভ্রান্তির চেষ্টা করেছিল; যারা ’৮৬ সালে বিভ্রান্ত করেছিল, যারা ২০০৯ সালে বিভ্রান্ত করেছিল; সেসব ব্যক্তি বা তাঁদের উত্তরসূরিরা আজ ২০২৬ সালে এসে আবার বিভ্রান্তির চেষ্টা করছে। আমরা কোনো টিকিট বিক্রি করতে চাই না। বরং আমরা বাস্তব কাজ করতে চাই।’ সেই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘জনগণের শান্তি নষ্ট করার সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না।’

তবে পরিস্থিতি যা-ই হোক না কেন, সরকার ও সরকারি দলের নেতা-কর্মীদের মনে রাখতে হবে, দেখতে দেখতে চার বছর ১০ মাস চলে যাবে। পাঁচ বছরের আমলনামা নিয়ে আবার জনগণের সামনে দাঁড়াতে হবে। তখন জনগণকে বলা যাবে না, ‘অসমাপ্ত কাজ শেষ করার জন্য আরেকবার সুযোগ দিন।’ সুযোগ হলো শুকনো বালুর মতো। যে হাতের মুষ্টিতেই রাখতে জানে, তার মুষ্টিতেই থাকে। অন্যদিকে বিরোধী দলকে মনে রাখতে হবে, চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান বারবার হবে না। ঘটানোও সম্ভব নয়। কে অভ্যুত্থান করেছে, আর কে ক্ষমতায় এসেছে সেই সস্তা বক্তব্য না দিয়ে দেশবাসীর রায়কে মূল্যায়ন করতে হবে। রাজনৈতিক শূন্যতায় অর্জিত ৭৭ আসন দু-তিন বছরের মধ্যেই ১৫৪ হবে, এটা ভাবার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। চার বছর ১০ মাস পর ছাব্বিশের মতো রাজনৈতিক নাতিশীতোষ্ণ পরিবেশ না-ও থাকতে পারে। সুতরাং সবাই অপেক্ষা করুন, ধৈর্য ধরুন। অধৈর্য হলে সুবিধা নয়, বরং বিপদই বাড়বে।

♦ লেখক : নির্বাহী সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রতিদিন

[email protected]



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews