আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, পরিত্যক্ত রাজনীতিবিদদের নিয়ে ঐক্য করে কিছু হবে না। তাদের নিজেদেরই জনপ্রিয়তা নেই এলাকায়।

শুক্রবার (১৪ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘কামাল সাহেবরা জনসভা করতে ৫০০ লোক খুঁজতে কষ্ট হয়। তাই তারা ঘরোয়া মিটিং করেন। এসব রাজনীতিবিদ হচ্ছে পরিত্যক্ত। ড. কামাল হোসেন, বি. চৌধুরী, মান্না, আব্দুর রব হচ্ছেন রাজনীতিতে পরিত্যক্ত ব্যক্তিত্ব। এই পরিত্যক্ত রাজনীতিবিদদের নিয়ে ঐক্য করে কিছু হবে না। তাদের নিজেদেরই জনপ্রিয়তা নেই এলাকায়। তারা রাত-বিরাতে মিটিং করে খবরের জন্ম দিচ্ছেন বটে, নির্বাচন এলে দেখা যাবে খালেক ভাই আর বাবলা ভাইয়ের কাছে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়ে গেছে। এদের এসব দৌড়ঝাঁপে কোনও লাভ হবে না।’

জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে দেখা করার কথা বলে অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারির সঙ্গে দেখা করার লজ্জা মির্জা ফখরুল ঢাকতে পারছেন না এমন দাবি করে তিনি বলেন, ‘বিএনপি নেতারা জাতিসংঘে যাচ্ছেন। পত্রিকায় খবর দেওয়া হলো জাতিসংঘ মহাসচিব নাকি তাদের ডেকেছেন। জাতিসংঘের মহাসচিব এখন আফ্রিকায় আর তিনি নাকি তাদের যুক্তরাষ্ট্রে ডেকেছেন। আর দেখা করলেন তারা জাতিসংঘের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারির সঙ্গে। আমাদের দেশে বিসিএস পরীক্ষা দেওয়ার পর প্রথম যার চাকরি হয় তিনি হন অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি। তারা অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারির সঙ্গে দেখা করলেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম সাহেবকে যখন জিজ্ঞেস করা হলো কী আলোচনা হয়েছে, আমতা আমতা করে কিছু বলতে পারলেন না। অর্থাৎ জনগণকে ধোঁকা দেওয়ার জন্য তারা জাতিসংঘে গেছেন আর সেখানের সর্বনিম্ন টায়ারের সঙ্গে দেখা করেছেন। এই হচ্ছে বিএনপির রাজনীতি।’

বিএনপি নির্বাচনে বিশ্বাস করে না দাবি করে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বিএনপির নেতৃত্বে কারা আছেন তাদের পরিচয়টা জানা দরকার। আর বিএনপি নির্বাচনে বিশ্বাস করে না। আমি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো কী করবো না সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার আমার আছে, সেই স্বাধীনতা আমার আছে। কিন্তু আরেকজন নির্বাচনে ভোট দিতে পারবে না সেটার জন্য প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা অন্যায়। বিএনপি ২০১৪ সালে সেটা করেছিল। তারা এখনও গণতন্ত্র ও নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে সব ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।’

লবিস্ট ফার্মকে দেওয়া অর্থের উৎস তদন্তের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিএনপি লবিস্ট ফার্ম নিয়োগ করেছে। ২০ হাজার ডলার এরই মধ্যে দিয়েছেন, প্রতিমাসে তাদের ৩৫ হাজার ডলার করে দিতে হবে। আমি সরকারকে অনুরোধ জানাবো, যেহেতু বিএনপি লবিস্ট ফার্ম নিয়োগ করেছে, আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে এটা এসেছে। এটা নিয়ে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। ৩৫ হাজার ডলার প্রতিমাসে দেওয়া কিংবা ২০ হাজার ডলার কোথা থেকে দেওয়া হলো? এটা নিয়ে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। এই টাকা বাংলাদেশ থেকে কীভাবে যায়, বিএনপিকে সেই হিসাব দিতে হবে। আমি সরকারকে অনুরোধ জানাবো, সরকারের যেসব সংস্থা এসব তদন্ত করে, তাদের অনুরোধ জানাবো অবিলম্বে বিএনপিকে নোটিশ প্রদান করা হোক এবং এই অর্থের উৎস তাদের কাছ থেকে জানা হোক।’

খালেদা জিয়ার সুবিধার্থে কারাগারে আদালত স্থাপন করা হয়েছে এমন দাবি করে তিনি আরও বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে যেই ভবনে রাখা হয়েছে শুধু সেই ভবনটিকে কারাগার হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, বাকি ভবনগুলো কিন্তু কারাগারের অংশ নয়। বাকিগুলো পরিত্যক্ত কারাগারের অংশ মাত্র। সেই পরিত্যক্ত একটি ভবনে খালেদা জিয়ার জন্য আদালত বসানো হয়েছে। এটি তার সুবিধার জন্য বসানো হয়েছে। তার আইনজীবীদের বক্তব্য খালেদা জিয়া হুইল চেয়ারে চলাফেরা করছেন, আদালতে যেতে পারছেন না। তিনি আদালত ও আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুল প্রদর্শন করেছেন। আর কোনও আসামি যদি থেকেও আদালতে হাজির না হয় তাহলেও কিন্তু বিচার তার অনুপস্থিতিতে করার সুযোগ রয়েছে। আমি সরকার, আইন মন্ত্রণালয় এবং সুপ্রিম কোর্টকে অনুরোধ জানাবো আইন এবং আদালতকে সমুন্নত রাখার স্বার্থে আদালতের এবং আইনের বিধান অনুযায়ী খালেদা জিয়ার মামলা বিবেচনা করার।’

আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি মোল্লা জালাল, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের উপদেষ্টা লায়ন চিত্তরঞ্জন দাস প্রমুখ।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews