বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার পদত্যাগপত্র গ্রহণ ‘অশনি সংকেত’ হিসেবে অভিহিত করে এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা সিনহার পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতি গ্রহণ করেছেন বলে বঙ্গভবনের বরাতে মঙ্গলবার সকালে গণমাধ্যমে খবর আসার পর দুপুরে এক আলোচনা সভায় তিনি এ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।মোশাররফ বলেন, প্রধান বিচারপতিকে (সিনহা) নজিরবিহীনভাবে ন্যক্কারজনকভাবে জোর করে পদত্যাগ করিয়ে আজকে বলেছেন যে, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। তিনি (সিনহা) ইচ্ছাকৃতভাবে এই পদত্যাগপত্র দেননি। জোর করে তাকে দিয়ে পদত্যাগ করানো হয়েছে। এটা অশনি সংকেত, এটা জাতির জন্য কলঙ্কজনক। উচ্চতর আদালতে যে নজিরবিহীন, খারাপ, হীন একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হল- তা বাংলাদেশের মানুষ কখনও গ্রহণ করবে না।জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী কৃষক দল।সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান দুদুর সভাপতিত্বে ও দফতর সম্পাদক এসকে সাদীর পরিচালনায় আলোচনা সভায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী, সৈয়দ মেহেদি আহমেদ রুমী, যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, কৃষক দলের সহসভাপতি এম এ তাহের, নাজিমউদ্দিন মাস্টার, যুগ্ম-সম্পাদক তকদির হোসেন জসিম এবং জামাল উদ্দিন খান মিলন বক্তব্য রাখেন।ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের প্রসঙ্গ টেনে খন্দকার মোশাররফ বলেন, ওই রায়ে বর্তমান সংসদকে প্রধান বিচারপতি ডিসফাংশনাল বলেছেন; এতে আওয়ামী লীগ গোস্বা করেছে। এই সংসদ ডিসফাংশনাল, কারণ এখানে ১৫৪টি আসনে যেসব প্রার্থী ছিল, জনগণ সেখানে কাউকে ভোট দেয়নি। সংবিধানে লেখা আছে জাতীয় সংসদ সদস্য তিনি, যিনি সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত। তাহলে ১৫৪ জন জনগণের দ্বারা নির্বাচিত নয়।বিচারপতি সিনহা ছুটি থেকে ফিরে ওই ১৫৪ জনের বৈধতার প্রশ্নে করা একটি রিটের শুনানি নিয়ে তাদের অবৈধ ঘোষণা করতে পারেন বলে সম্ভাবনা থাকায় তাকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।বিএনপির এ নেতা বলেন, আমরা শুনতে পারছিলাম যে, প্রধান বিচারপতি ছুটি থেকে আদালতে বসে একটি রিট করা আছে যে ১৫৪ জন অবৈধ, সেই রিট মামলার শুনানি করবেন। হয়তো সিদ্ধান্ত যেতে পারে ১৫৪ আসন অবৈধ। তাহলে সরকার অবৈধ হয়ে যায়। এজন্যই সরকার প্রধান বিচারপতি (সুরেন্দ্র কুমার সিনহা) ওপরে কী ন্যক্কারজনকভাবে, নজিরবিহীনভাবে প্রথমে সুস্থ মানুষকে অসুস্থ বানিয়ে ছুটির দরখাস্ত করিয়ে নিল, পরে তাকে গায়ের জোরে দেশ থেকে তাড়িয়ে দিল। শুধু তাই না, সেই প্রধান বিচারপতিকে সরকারের লোকরা সিঙ্গাপুরে গিয়ে, তিনি অস্ট্রেলিয়া থেকে চলে আসছিলেন বাংলাদেশে আসার জন্য, সেখানে গিয়ে জোর করে তার থেকে পদত্যাগপত্র নেয়া হয়েছে। এটা অশনি সংকেত।তিনি বলেন, রাষ্ট্রের তিনটি স্তম্ভকে ধবংস করে আওয়ামী লীগ অলিখিত বাকশাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশে একটা জঙ্গল আইন করতে চায়।এই অবস্থা থেকে উত্তরণে ফের নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি জানিয়ে মোশাররফ বলেন, এবার ২০১৪ সালের মতো নির্বাচন জনগণ হতে দেবে না। জনগণ রাস্তায় নামবে। জাতীয়তাবাদী শক্তির নেত্রী খালেদা জিয়া সেই জনগণকে নেতৃত্ব দেবেন। রাস্তায় এসে জনগণ তাদের প্রস্তাবিত নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবি আদায় করার পর একাদশ সংসদ নির্বাচন হবে।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews