সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমদ সোহেল তাজ বলেছেন, রাজনীতিতে ফেরার তার কোনো ইচ্ছা নেই। তিনি বর্তমানে দেশের মানুষকে স্বাস্থ্যসচেতন হিসেবে গড়ে তোলার কাজে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। তিনি বিশ্বাস করেন- একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে যে কেউ যে কোনো অবস্থান থেকেই দেশের অগ্রগতির ক্ষেত্রে অবদান রাখতে পারেন। তিনি তার অবস্থান থেকে স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে মানুষকে সচেতন করে তোলার চেষ্টা করছেন। এ কাজটি তিনি উপভোগও করছেন। গতকাল সোমবার সমকালকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহীদ তাজউদ্দীন আহমদের ছেলে সোহেল তাজ এমন কথা জানান।
আওয়ামী লীগ থেকে তাকে দলে ফেরানোর উদ্যোগ নিলে সাড়া দেবেন কিনা- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, কে বলেছে, আমি আওয়ামী লীগের বাইরে আছি? আমি তো আওয়ামী লীগের বাইরের কেউ নই।
১০ এপ্রিল প্রথম বাংলাদেশ সরকার গঠনের দিনকে 'প্রজাতন্ত্র দিবস' হিসেবে ঘোষণাসহ তিন দফা দাবিতে গত রোববার সোহেল তাজ সংসদ ভবন থেকে গণভবন পর্যন্ত পদযাত্রা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবর স্মারকলিপি পেশের কর্মসূচি পালন করেছেন। তার দাবিতে আরও ছিল- ৩ নভেম্বর জেলহত্যা দিবসকে জাতীয় শোক দিবস ঘোষণা করে রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন এবং জাতীয় চার নেতাসহ মুক্তিযুদ্ধের সব বেসামরিক ও সামরিক সংগঠক, পরিচালক, অমর শহীদ, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নাম, অবদান, জীবনীসহ মুক্তিযুদ্ধের সঠিক, পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস যথাযথ মর্যাদা এবং গুরুত্বের সঙ্গে সর্বস্তরের পাঠ্যপুস্তক ও সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এই প্রেক্ষাপটেই সমকালের পক্ষ থেকে সোহেল তাজের সঙ্গে আলাপ করা হয়।
নতুন প্রজন্মকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস সম্পর্কে সচেতন করে তুলতেই এ কর্মসূচি নিয়েছিলেন জানিয়ে সোহেল তাজ বলেন, তিনি মনে করেন নতুন ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার ইতিহাস সম্পর্কে না জানলে দেশের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। আর এই প্রজন্মই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে মুক্তিযুদ্ধকে তাদের অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে কাজে লাগাতে পারবে। তাই নতুন প্রজন্মের মধ্যে এ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যেই এমন কর্মসূচি তিনি নিয়েছিলেন।
হঠাৎ কেন এমন ধরনের কর্মসূচি- এ প্রশ্নে সোহেল তাজ বলেন, এটা আসলে হঠাৎ নয়। বেশ কিছুদিন ধরেই বিষয়টি নিয়ে তিনি ভেবেছেন। উপলব্ধি করেছেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পাশাপাশি অনেক সামরিক-বেসামরিক ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতারাসহ সংগঠক ও কূটনীতিক, সর্বোপরি অগণিত শহীদ ও মা-বোনের অবদান রয়েছে। দেশের নতুন প্রজন্মের কাছে তাদের এই আত্মত্যাগকে তুলে ধরা অত্যন্ত জরুরি। তিনি বলেন, ভেবেছিলাম- স্বাধীনতার নেতৃত্ব দানকারী দল আওয়ামী লীগ সরকার যেহেতু ক্ষমতায়, সেহেতু তারাই এ কাজগুলো করবে। তিনি এটাও আশা করেছিলেন, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তীতে সবকিছু চলে আসবে। কিন্তু দুর্ভাগ্য, সরকারের ১২ বছর অতিবাহিত হলেও এগুলোর কিছুই করা হয়নি। সে জন্য দেশের একজন সচেতন নাগরিক এবং তাজউদ্দীন আহমদ ও জোহরা তাজউদ্দীনের সন্তান হিসেবে দেশের প্রতি কর্তব্য এবং দায়িত্ববোধ থেকেই এ কর্মসূচি পালন করেছেন।
১০ এপ্রিল প্রথম বাংলাদেশ সরকার গঠনের দিনকে 'প্রজাতন্ত্র দিবস' হিসেবে ঘোষণার দাবির পক্ষে তার যুক্তি তুলে ধরে সোহেল তাজ বলেন, একাত্তরের ২৫ মার্চ বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানিরা গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়ার পর জাতীয় চার নেতা শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, এএইচএম কামারুজ্জামান এবং ক্যাপ্টেন মনসুর আলীরা মিলে এই যে সরকার গঠন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, সেটা একটা যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। আমাদের দূরদর্শী এই নেতারা বঙ্গবন্ধুর ডাকে যে স্বাধীনতা সংগ্রাম গড়ে তুলেছিলেন, সেই স্বাধীনতা সংগ্রামের একটি আইনগত ভিত্তিও রচিত হয়েছিল এই সরকার ও স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে। সেটাই পরবর্তী সময়ে সফলভাবে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা এবং বিজয় এনে দিয়েছিল। কাজেই দেশের প্রথম সরকারের স্বীকৃতির পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনাকারী সরকারের গুরুত্বও তুলে ধরা দরকার। এমন উপলব্ধি থেকেই 'প্রজাতন্ত্র দিবস'-এর দাবিটি সামনে নিয়ে এসেছেন বলে জানান সোহেল তাজ।
তার এ কর্মসূচি পালন বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে কিনা- জানতে চাইলে সোহেল তাজ বলেন, কর্মসূচি পালনের আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার কোনো কথা হয়নি। তবে বাংলাদেশের প্রথম সরকার, জেলহত্যা দিবস ইত্যাদি বিষয় নিয়ে তো বঙ্গবন্ধুকন্যার সঙ্গে সারাজীবনই আলাপ হচ্ছে। তিনি আশা করেন, ভবিষ্যতে সংসদ সদস্যরা এবং আওয়ামী লীগসহ স্বাধীনতার পক্ষের নেতারা, রাজনীতিবিদ, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, নাগরিক সবাই এটা নিয়ে আলাপ করবেন। তার বিশ্বাস, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই একমাত্র ব্যক্তি, যিনি এগুলোকে বাস্তবায়ন করতে পারবেন।