অবশেষে করোনার ভয় ধরেছে ট্রাম্পের!

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০১৬ সালের নির্বাচনি প্রচারণার অন্যতম শ্লোগান ছিলো ‘আমেরিকা ফার্স্ট’। তিনি সব দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে শীর্ষে রাখার অঙ্গীকার করে আসছেন। নতুন করোনা ভাইরাস মহামারিতে যুক্তরাষ্ট্র যখন আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যায় সব দেশকে ছাড়িয়ে গেল, তখন অনেকেই খোঁচা দিয়ে বলেছেন—আমেরিকা ফার্স্ট হয়েছে।

এই করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবকে প্রথম থেকেই আমলে নিতে চাননি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এই ভাইরাসে কিছু হবে না, এমনি এমনি এই ভাইরাস চলে যাবে—বলে মন্তব্য করেছিলেন। যখন ভাইরাসের সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়তে থাকে তখনো উলটা-পালটা মন্তব্য করেছেন। কোনো ধরনের পরীক্ষা ছাড়াই ওষুধ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন। জনগণকে মুখে মাস্ক পরতে নিরুত্সাহিত করেছেন। এমনকি নিজেও মুখে মাস্ক ব্যবহার করেন না। ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ২৫ লাখের বেশি মানুষ আক্রান্ত এবং ১ লাখ ২৫ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

করোনা মহামারির প্রথম ধাক্কা সামলে যুক্তরাষ্ট্র যখন আস্তে আস্তে করে অর্থনীতির চাকা সচল করার চেষ্টা করছিল ঠিক তখনি দ্বিতীয় ঢেউ আছড়ে পড়েছে। গত পাঁচ দিনে ধারাবাহিকভাবে সর্বোচ্চ আক্রান্তের রেকর্ড হয়েছে। সর্বশেষ শনিবার একদিনে আক্রান্ত হয়েছেন ৪৪ হাজার ৭০০র বেশি মানুষ। যে কারণে খোলার আগেই আবারও অচল মার্কিন অর্থনীতি! যুক্তরাষ্ট্রে যখন এই অবস্থা বিরাজ করছে তখন আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হতে মাত্র চার মাস বাকি আছে। ইতিমধ্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দ্বিতীয়বার নির্বাচিত হতে প্রচারণা শুরু করে দিয়েছেন। গত ২০ জুন ওকলাহামার তুলসা শহরে প্রথম নির্বাচনি সমাবেশে যোগ দেন তিনি। কিন্তু করোনা ভাইরাসের এই কঠিন মুহূর্তে তিনি আশানুরূপ সাড়া পাননি।

উলটো সমাবেশের আগে তার প্রচারণা দলের ছয় কর্মী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তাত্ক্ষণিকভাবে আক্রান্তদের কোয়ারেন্টাইন করার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। এছাড়া কয়েক জন গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। করোনা মহামারির মধ্যে ট্রাম্প তার ঐ নির্বাচনি প্রচারণা ফের শুরুর ঘোষণা দিলে অনেকে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। যদিও তাতে কর্ণপাত করেননি তিনি। কারণ করোনা ভাইরাসকে তিনি পাত্তা দিতে রাজি নন !

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টনের লেখা বইটি সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে। দ্য রুম হোয়্যার ইট হ্যাপেন্ড (যে ঘরে এসব ঘটেছে) শীর্ষক বইটিতে বোল্টন বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বেশির ভাগ সিদ্ধান্তই নেন আগামী নির্বাচনে আবার জিতে আসার উদ্দেশ্যেই। আসলেই তাই। এই নির্বাচনে জয় লাভ করার জন্যই এখন করোনা ভাইরাসকে ভয় পাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এই ভয়ের প্রেক্ষিতে নাটকীয়ভাবে বাড়ানো হয়েছে করোনা থেকে ট্রাম্পকে সুরক্ষার ব্যবস্থা।

মার্কিন সংবাদ মাধ্যম সিএনএনের এক খবরে বলা হয়েছে, সম্প্রতি প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জো বাইডেনের শারীরিক অবস্থা নিয়ে কথা বলেন ট্রাম্প। এরপরই তার ভীতির কথা প্রকাশ পায়। এই মুহূর্তে করোনা আক্রান্ত হলে পরিস্থিতি কি হবে তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তাই তার সুরক্ষা ব্যবস্থাকে জোরাল করার ওপর জোর দিয়েছেন।

সিএনএনের খবরে বলা হয়, বেশি সংক্রমিত কোনো এলাকায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যাওয়ার আগে ভেন্যুগুলো ভালোভাবে পরিদর্শন করছেন অগ্রগামী নিরাপত্তা ও মেডিক্যাল টিমের সদস্যরা। বাথরুম থেকে মঞ্চ সবখানে জীবাণু ধ্বংস করা হচ্ছে। করোনা টেস্টে নেগেটিভ ব্যক্তিরাই কেবল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাত্ করবেন বা সংস্পর্শে আসবেন। অথচ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প করোনা ভাইরাসকে উপেক্ষা করে বারবার অঙ্গরাজ্যগুলোতে অর্থনৈতিক কার্যক্রম সচল করতে চেষ্টা চালিয়েছেন। ট্রাম্পের এসব কার্যক্রমে জন বোল্টনের কথা সত্য বলে প্রতীয়মান হচ্ছে যে, নির্বাচনে জয় ছাড়া কোনো কিছুই ট্রাম্পের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়।

তবে করোনা ভাইরাস নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যদি শুরু থেকেই সিরিয়াস হতেন তবে আগামী নির্বাচন নিয়ে তাকে এখন বেগ পেতে হতো না। কারণ করোনা সংক্রমণ, মৃত্যু ও অর্থনৈতিক দুরবস্থার কারণে প্রতিদ্বন্দ্বী জো বাইডেনের থেকে অনেক পিছিয়ে পড়েছেন তিনি। যেসব অঙ্গরাজ্যে গত নির্বাচনে তিনি এগিয়ে ছিলেন সেখানে হয়তো পিছিয়ে পড়েছেন না হয় হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের মুখোমুখি। করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় ট্রাম্পের ভূমিকায় উদ্বিগ্ন তার দল রিপাবলিকান পার্টির নেতারাও। অনেক রিপাবলিকান কর্মীর মতে, করোনা মহামারিতে অর্থনীতি খারাপ হওয়ায় হারতে পারেন ট্রাম্প। এমনকি হাতছাড়া হতে পারে সিনেটও।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews