এ পর্যায়ে এসে অভিযোগের সুরে এটুকু বলাই যায়, গত ২১ ঘণ্টা ধরে নিজেদের অভিনয় দিয়ে অন্তর্জালে বিষণ্নতা ছড়িয়ে যাচ্ছেন আফরান নিশো ও মেহজাবীন চৌধুরী!
এমনিতেই এ দুজন এখন বাংলাদেশ টিভি ইন্ডাস্ট্রির সর্বোচ্চ জনপ্রিয় দুই মুখ। ফলে, তারা যখন এক হবেন- তখন বাড়তি আগ্রহ পেয়ে বসবে দর্শকদের; স্বাভাবিক। তবে এবার সেটি টিভি পর্দা থেকে বেরিয়ে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। কারণ, এই দুজনকে নিয়ে নির্মিত ‘অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার’ নাটকটি সরাসরি মুক্তি পেয়েছে ইউটিউব চ্যানেলে, গতকাল (১০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায়- এখন থেকে ঠিক ২১ ঘণ্টা আগে।
রুশো আহমেদের গল্পে ‘অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার’ নাটকের চিত্রনাট্য ও পরিচালনা করেছেন এবি রোকন। বলা প্রয়োজন, এটি রোকনের নির্দেশনায় প্রথম নাটক। এর আগে তিনি লম্বা সময় কাজ করেছেন জনপ্রিয় নির্মাতা মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজের সহকারী হিসেবে। সিনেমাওয়ালার ব্যানারে নাটকটি প্রযোজনা করেছেন রোকনের নির্মাণ গুরু রাজ নিজেই।
তো নাটকটি ইউটিউবে উন্মুক্ত হওয়ার পর এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (১১ জানুয়ারি বিকাল সাড়ে ৪টা) গত ২১ ঘণ্টায় অতিক্রম করেছে সাড়ে সাত লাখ ভিউ! যা সচরাচর ঘটে না বলেই অভিমত দিয়েছেন অনেক অন্তর্জাল অভিজ্ঞজন। তাই নয়, নাটকটি দেখার পর বেশিরভাগ দর্শকই ইউটিউবের কমেন্ট বক্স এবং ফেসবুকে দিচ্ছেন নিজেদের মতামত। যার ৯৯ ভাগই, বিষণ্নতার অভিযোগ! বেশিরভাগ মন্তব্যই এমন, ‘নাটকটির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কেঁদেছি।’ অথবা ‘বাস্তবতা কতটা নির্মম সেটা এই নাটকের মাধ্যমে আবারও বুঝলাম।’ এক দর্শক তো নিজের জীবন থেকেই লিখেছেন, ‘‘২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসের ৯ তারিখ আমি ‘অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার’ হাতে পাই। একই দিনে আমার ভালোবাসার মানুষ অন্যের হয়ে যায়। হায় বাস্তবতা! নাটকের চাইতেও নাটকীয় আমার জীবন। ধন্যবাদ মেহজাবীন এবং নিশো ভাই। এক সেকেন্ডের জন্যেও মনে হয়নি আপনারা অভিনয় করছেন।’’
এভাবে সাড়ে পাঁচ হাজার দর্শকের কমেন্ট এ পর্যন্ত পড়েছে শুধু ইউটিউবের একটি লিংকে। আর ফেসবুকে নাটকটির ইউটিউব লিংক ও স্থিরচিত্র শেয়ার করে চলছে দর্শকদের বিষণ্নতার গল্প।
একজন বেকার প্রেমিক ও অসহায় প্রেমিকার গল্পে নির্মিত হয়েছে ‘অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার’। বেকার যুবকের চরিত্রে আফরান নিশো এবং অসহায় প্রেমিকার চরিত্রে অভিনয় করেছেন মেহজাবীন চৌধুরী। নাটকের গল্পে দেখা যায়, চাকরির জন্য বিভিন্ন অফিসে ইন্টারভিউ দেন মেধাবী নিশো। কিন্তু কোথাও তার চাকরি হয় না। সবসময় তাকে মানসিকভাবে সাহস যোগান মেহজাবীন।
হঠাৎ একদিন মেহজাবীন ফোন করে নিশোকে জানান, তার বাবা ডাক্তার ছেলের সঙ্গে বিয়ে ঠিক করেছেন। নিরুপায় নিশো এটা জানার পর কিছুই করতে পারেন না। এমনকি কোনও চাকরিও যোগাড় করতে পারেন না। যেদিন মেহজাবীনের বিয়ে হয়, সেদিনই নিশো একটা চাকরি পান! এরমধ্যে ঘটতে থাকে দর্শকদের কেঁদে ফেলার মতো নানা ঘটনা।
দর্শকদের এই কান্নায় বাড়তি রসদ জুগিয়েছে নাভেদ পারভেজের সুর-সংগীতে রেহান রসুলের গাওয়া ‘ফেরাতে পারিনি’ নামের গানটি।

ওপেনিং নাটকেই নির্মাতার বাজিমাত! উচ্ছ্বসিত তরুণ নির্মাতা এবি রোকন বললেন, ‘কী বলবো আসলে বুঝতে পারছি না। এত দ্রুত, এতোটা সাড়া পাবো চারপাশ থেকে, কল্পনাও করিনি। সত্যিই ভালো একটা ওপেনিং হলো। যদিও এর পুরো ক্রেডিট মূলত একজন মানুষই পাবেন, মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ ভাই। যিনি আমাকে এ পর্যন্ত টেনে এনেছেন। আর কৃতজ্ঞতা জানাই সংশ্লিষ্ট সবাইকে। সবার পূর্ণ সহযোগিতা না পেলে কাজটি এত ভালো হয় তো হতো না।’

দেখে নিতে পারেন পুরো নাটকটি:



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews