তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে সাংবাদিক জামাল খাসোগিকে হত্যা করতে ১৫ সদস্যের স্কোয়াড নিয়োগ দিয়েছিল সৌদি আরব। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে আল-জাজিরা এমনটাই জানিয়েছে। 

এদিকে তুরস্কের সরকার সমর্থক একটি দৈনিকের এক খবরে ওই ১৫ সদস্যের আততায়ী দলের প্রত্যেক সদস্যের নাম ও ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের খুঁজছে তুরস্কের কর্তৃপক্ষ।

সাংবাদিক জামাল খাসোগিকে হত্যায় জড়িত ১৫ সদস্যের স্কোয়াডের এই ছবি তুরস্কের একটি গণমাধ্যম প্রকাশ করেছে। ছবি: টুইটারনাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ‘শীর্ষ কর্মকর্তাদের’ বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ওই আততায়ী দলে একজন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞও ছিলেন। তিনি হাড় কাটতে করাত সঙ্গে এনেছিলেন। করাত আনার কারণ হিসেবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হত্যার পর খাসোগির দেহ টুকরো টুকরো করা। ওই আততায়ী দলটি সিনেমা স্টাইলে খাসোগিকে হত্যা করে। দুই ঘণ্টার ভেতর মিশন শেষ করে তারা তুরস্ক থেকে বিভিন্ন দেশের উদ্দেশে রওনা হয়ে যায়।

এদিকে খাসোগি হত্যাকাণ্ডকে কোয়েন্টিন তারান্টিনো পরিচালিত হলিউডের সিনেমা পাল্প ফিকশনের সঙ্গে তুলনা করেছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা।

এদিকে তুরস্ক সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রেখে চলা দৈনিক সাবাহ, ওই ১৫ সদস্যের আততায়ী টিমের সদস্যদের নাম ও ছবি প্রকাশ করেছে। এখন জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের খুঁজছে তুরস্কের কর্তৃপক্ষ।

১৫ জনের নাম ও ছবি প্রকাশ

তুরস্কের ‘ডেইলি সাবাহ’ খাসোগির ‘হত্যাকাণ্ডে’ জড়িত সন্দেহে আততায়ী দলের ১৫ জনের নাম ও ছবি প্রকাশ করেছে। দৈনিকটি বলছে, ইস্তাম্বুলে সৌদি আরবের কনস্যুলেটে প্রবেশের পর খাসোগিকে হত্যা করে ওই ব্যক্তিরা তুরস্ক ছেড়ে চলে যায়। ওই ব্যক্তিরা দুটি ব্যক্তিগত বিমানে করে রিয়াদ থেকে ইস্তাম্বুলে আসে।

২ অক্টোবর ইস্তাম্বুলে সৌদির কনস্যুলেটে প্রবেশের পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন খাসোগি। এই দিন ১৫ সৌদি নাগরিকও সেখানে প্রবেশ করে। তারা কনস্যুলেটে যাওয়ার আগে এর পাশের দুটি আন্তর্জাতিক হোটেলে ওঠে। কনস্যুলেটের অপারেশন শেষ করে ওই দিনই তারা তুরস্ক ত্যাগ করে। তাদের বহনকারী ব্যক্তিগত দুটি বিমান কায়রো ও দুবাই হয়ে রিয়াদের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। খাসোগির নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এসব সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে তুরস্কের কর্তৃপক্ষ খুঁজছে বলেও সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে।

সৌদি কনস্যুলেটের ভেতর সাংবাদিক জামাল খাসোগি। ছবি: রয়টার্সএদিকে এ ঘটনার তদন্তের সঙ্গে জড়িত একজন কর্মকর্তার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র এক গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, সন্দেহভাজন তিন ব্যক্তি সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্বে নিয়োজিত বিশেষ ইউনিটের সদস্য। এদের একজন সৌদি নিরাপত্তা বাহিনীর ফরেনসিক বিভাগের প্রধান বলেও ওই সূত্রটি জানিয়েছে।

গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছা নির্বাসনে যান খাসোগি। এরপরই ওয়াশিংটন পোস্টে প্রতি মাসে কলাম লিখতেন। কলামে তিনি সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান সম্পর্কে নানা সমালোচনামূলক লেখা লিখেছেন। নিজের কলামেই তিনি লেখেন, সালমান বাদশাহ হলে খাসোগি ভিন্নমত পোষণের কারণে গ্রেপ্তার হওয়ার আতঙ্কে রয়েছেন।

তুরস্কের একটি টেলিভিশনের প্রচারিত সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ওই ১৫ জন আততায়ী তুরস্ক বিমানবন্দরে প্রবেশের পর হোটেলে উঠছে। খাসোগি কনস্যুলেটে প্রবেশের ঘণ্টাখানেক আগে কিছু গাড়ি দূতাবাসে ঢুকতে দেখা গেছে।

৫৯ বছর বয়সী খাসোগি ২ অক্টোবর ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে কাগজপত্র ইস্যু করার জন্য প্রবেশ করেন। কিন্তু তাঁর পরিবার ও বন্ধুবান্ধব এবং তুরস্ক কর্তৃপক্ষের দাবি, তিনি কনস্যুলেট থেকে আর বের হননি। তবে সৌদির কর্মকর্তারা খাসোগির নিখোঁজ ও তাঁর হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁদের দাবি, ২ অক্টোবর ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেট ছেড়ে বেরিয়ে গেছেন তিনি। তবে তাঁদের এই দাবির পক্ষে প্রমাণ দিতে রিয়াদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। তুরস্কের এই চাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার সৌদি আরব জানিয়েছে, ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে তুরস্কের তদন্তকারী দল তল্লাশি করতে পারবে। পরে তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, সৌদি কর্তৃপক্ষ বলেছে, তারা সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। কনস্যুলেট ভবনে তল্লাশির অনুমতিও আছে।

ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে সাংবাদিক জামাল খাসোগিকে হত্যা করতে ১৫ সদস্যের স্কোয়াড নিয়োগ দিয়েছিল সৌদি আরব। ছবি: বিবিসিতুরস্কের পুলিশ জানিয়েছিল, জামাল খাসোগি যেদিন কনস্যুলেটে যান, সেদিন সৌদি আরব থেকে কর্মকর্তাসহ ১৫ জন দুটি ফ্লাইটে তুরস্ক পৌঁছে ইস্তাম্বুলে নিজেদের কনস্যুলেটে যান। ওই দিনই তাঁরা ফিরে যান। তুরস্কের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি কর্মকর্তা বলেছেন, ইস্তাম্বুলে পাঠানো সৌদির বিশেষ দলের হাতে জামাল খাসোগি খুন হয়েছেন বলে পুলিশের ধারণা।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এক বিবৃতিতে বলেছেন, জামাল খাসোগির নিখোঁজের বিষয়টি সৌদি সরকারের তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন এবং তদন্তের ফলাফলের বিষয়ে স্বচ্ছতা থাকতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি সাংবাদিক নিখোঁজের ঘটনায় উদ্বিগ্ন। হোয়াইট হাউসে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘এ ঘটনা সম্পর্কে কেউ এখন পর্যন্ত কিছু জানে না। খারাপ কিছু খবর শোনা যাচ্ছে। তবে আমি সেগুলো বিশ্বাস করছি না।’ তথ্যসূত্র: এএফপি, বিবিসি, আল–জাজিরা।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews