ভারতের জনপ্রিয় অভিনেত্রী শেফালি জারিওয়ালার আকস্মিক মৃত্যু ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছেন তার স্বামী, অভিনেতা পরাগ ত্যাগী।
ময়নাতদন্তে হৃদরোগকে মৃত্যুর কারণ বলা হলেও পরাগের দাবি, এই মৃত্যুর পেছনে কাজ করেছে ‘কালো জাদু’ কিংবা কোনো অতিপ্রাকৃত অশুভ শক্তি।
সম্প্রতি একটি পডকাস্টে অংশ নিয়ে নিজের বিশ্বাস ও সন্দেহের কথা প্রকাশ করেন পরাগ। তিনি বলেন, অনেকেই এসব বিষয় মানেন না, কিন্তু তিনি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করেন—যেখানে ঈশ্বরের অস্তিত্ব আছে, সেখানে শয়তানের অস্তিত্বও আছে।
পরাগের মতে, শেফালির জীবনে মৃত্যুর আগেও একাধিক অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটেছিল, তবে শেষ ঘটনাটি ছিল সবচেয়ে ভয়ংকর ও শক্তিশালী, যেন পরিকল্পিত কোনো অশুভ কাজ।
পরাগ আরও জানান, ধ্যানে বসার সময় তিনি বারবার অনুভব করেছেন যে কোনো বড় ভুল হয়ে গেছে। সেই সূত্র ধরেই তিনি একটি বিশেষ ঘটনার কথা উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে এক ব্যক্তির পরামর্শে শেফালিকে দিয়ে তারা তাদের বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে থাকা একটি ‘পঞ্চমুখী হনুমান’ মূর্তি অন্যত্র সরিয়ে রাখেন মূর্তিটি সরানোর পর থেকেই পরাগ মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং পরে বহু খোঁজাখুঁজির পরও সেটি আর খুঁজে পাননি।
পরাগের বিশ্বাস, ওই পবিত্র মূর্তিটি সরিয়ে ফেলার মাধ্যমেই শেফালির ওপর থাকা সুরক্ষা ভেঙে যায় এবং অশুভ শক্তি তাকে গ্রাস করে। এর কিছুদিন পরই ঘটে সেই মর্মান্তিক মৃত্যু। তিনি আরও জানান, শেফালির মৃত্যুর প্রায় এক মাস পর কেউ তাকে আবার একটি পঞ্চমুখী হনুমানজির মূর্তি উপহার দেন। তখন তিনি হনুমানজিকে উদ্দেশ করে বলেন, “আপনাকে ধন্যবাদ, কিন্তু আপনি অনেক দেরি করে এসেছেন।”
পডকাস্টে পরাগ দৃঢ়ভাবে দাবি করেন, তিনি শতভাগ নিশ্চিত—শেফালির সঙ্গে কেউ খারাপ কিছু করেছে। এই ঘটনার পেছনে যারা জড়িত, তাদের তিনি কোনো দিন ক্ষমা করবেন না বলেও জানান।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২৭ জুন মাত্র ৪২ বছর বয়সে মারা যান শেফালি জারিওয়ালা। প্রাথমিক ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কথা বলা হয়। পাশাপাশি জানা যায়, তিনি নিয়মিত কিছু অ্যান্টি-এজিং ইনজেকশন ও ওষুধ গ্রহণ করতেন, যার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ হতে পারে বলে চিকিৎসকদের একাংশ ধারণা করেছিলেন। তবে এসব বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার বাইরে গিয়ে পরাগ ত্যাগী এখনো অতিপ্রাকৃত তত্ত্বেই অটল রয়েছেন।